শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লোকে-লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক তাদেরকে জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতেই হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে নারীর মৃত্যু টেকনাফে অপহৃত উদ্ধার : অস্ত্র সহ চক্রের ৩ সদস্য আটক প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করা গেলে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা টেকনাফের ‘ডাকাত খায়ের’ সহযোগী নারী সহ গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এক শহীদ ও আহত ৪৭ জনকে সহায়তা প্রদান সেন্টমার্টিন থেকে সাগরে ফিরেছে ১৮৩টি কচ্ছপের বাচ্চা লুট করেই ৬ ট্রলার সহ ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা নিহত

রাত জাগা থেকে হাঁপানি ও অ্যালার্জি

বিডিনিউজ: কিশোর বয়সে রাত জাগার অভ্যাস থেকে হাঁপানি ও অ্যালার্জিতে ভোগার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

আর এই তথ্য উঠে এসেছে কানাডা’র ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালবার্টা’র একটি গবেষণায়। 

এতে দাবি করা হয়, রাতজাগার বদভ্যাস বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকি এবং ডেকে আনে হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা।

গবেষণার নেতৃত্ব দেন ‘পালমোনারি মেডিসিন’ বিভাগের ডা. শুভব্রত মৈত্র।

১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সি মোট ১৬৮৪ জন কিশোর-কিশোরি এতে অংশ নেয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয় তাদের ঘুমের অভ্যাস, দিনের কোন সময়টায় সবচাইতে বেশি ক্লান্ত লাগে, সচরাচর কোন সময়ে তারা ঘুম থেকে ওঠে ইত্যাদি সম্পর্কে।

পরবর্তীতে সময়ে তাদের হাঁচি-কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট, অ্যালার্জির সমস্যা, ধূমপানের বদভ্যাস ইত্যাদি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা রাতে সময়মত ঘুমায় তাদের তুলনায় যারা দেরি করে ঘুমায় যারা তাদের হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তিনগুন বেশি।

রাতজাগা আর শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক দেখাননি গবেষকরা। তবে তাদের দাবি, ঘুমের অনিয়মের কারণে হওয়া হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার সম্পর্ক আছে।

ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন হলো ‘মেলাটনিন’। যখনই কেউ ঘুমের স্বাভাবিক নিয়ম ভাঙে তখন এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর কারণে শরীরের ওপর বিভিন্ন প্রভাব পড়ে। যেমন- ক্লান্তি, বদমেজাজ, অ্যালার্জি, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি।

ডা. মৈত্র বলেন, “‘টিনএইজ’দের ঘুমানো সময়ের সঙ্গে হাঁপানি ও অ্যালার্জির সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে আমাদের গবেষণায়। আমরা বলছি না যে রাত জাগলেই কারও হাঁপানি হবে। তবে রাতজাগার কারণে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া থেকে রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।”

ঘুমের সমস্যার আরেকটি কারণ হলো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’। এই রোগে ঘুমের মধ্যে দম আটকে যাওয়ার অবস্থা হয় এবং সব বয়সের হাঁপানি রোগীর সঙ্গেই এমনটা হতে দেখা যায়। পাশাপাশি ঘরের বাতাসে থাকা ‘অ্যালার্জেনস’, ‘কুল্যান্টস’য়ের সংস্পর্শে আসা, বিশেষ কোনো ভঙ্গিতে ঘুমানো, পুরানো কোনো হরমোনজনীত সমস্যা ইত্যাদিও হাঁপানির সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয় রাতের বেলায়।

যা করা যেতে পারে

– সাত থেকে আট ঘণ্টার নির্ভেজাল ঘুম সব বয়সের মানুষকেই নিশ্চিত করতেই হবে। কালেভদ্রে রাত জাগতেই পারেন। তবে তাকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না।

– শোবার ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরে ধুলা জমতে দেওয়া যাবে না, ম্যাট্রেস বা তোশক পরিষ্কার রাখতে হবে, এসি রাখতে হবে সহনীয় তাপমাত্রায়।

– কীভাবে শুয়ে আরামে ঘুমাতে পারেন সেটা বুঝতে হবে। অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে ঘুমানো উচিত না। খেয়াল রাখতে হবে ঘুমানোর ভঙ্গির কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসে যেন বাধা সৃষ্টি না হয়।

– ঘরের বাতাস অস্বাস্থ্যকর হলে ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ বা ‘হিউমিডিফায়ার’ ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন।

– ঘুমের স্বাস্থ্যকর নিয়ম গড়তে হবে এবং তা শক্তভাবে মেনে চলতে হবে।

– ‘ডিজিটাল স্ক্রিনটাইম’ কমাতে হবে। ঘুমানোর আগে মোবাইল চালানো বন্ধ করতে হবে।

– ঘুমে সহায়ক প্রাকৃতিক উপাদান যেমন ‘এসেন্সিয়াল অয়েল’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

.coxsbazartimes.com

Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themesbcox1716222888