শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লোকে-লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক তাদেরকে জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতেই হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে নারীর মৃত্যু টেকনাফে অপহৃত উদ্ধার : অস্ত্র সহ চক্রের ৩ সদস্য আটক প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করা গেলে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা টেকনাফের ‘ডাকাত খায়ের’ সহযোগী নারী সহ গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এক শহীদ ও আহত ৪৭ জনকে সহায়তা প্রদান সেন্টমার্টিন থেকে সাগরে ফিরেছে ১৮৩টি কচ্ছপের বাচ্চা লুট করেই ৬ ট্রলার সহ ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা নিহত

কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ে কমছে করোনা সংক্রমণ

বিশেষ প্রতিবেদক : কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কারণে দিন দিন কক্সবাজার পৌর শহরে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমে আসছে। ইতিমধ্যে গত এক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৪’শ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও তথ্য সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা এবং আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। যা সম্ভব হয়েছে স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবকদের কারণে এমনটায় মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ শনিবার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে প্রকাশিত রিপোর্টে ১৬৪ জনের করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারমধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে কক্সবাজার জেলায় মাত্র ৯ জন। যা গত দু’মাসের মধ্যে কক্সবাজারে সর্বনিম্ন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্তের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ৪ জন, উখিয়া উপজেলার ১ জন ও টেকনাফ উপজেলার ৪ জন বাসিন্দা রয়েছে। তবে কক্সবাজার পৌর এলাকায় নতুন করে শনাক্ত হয়নি কেউ।

‘কক্সবাজার জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ জন রোহিঙ্গাসহ ২ হাজার ৭৭৬ জনে। তারমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ২০৫ জনের বেশি। মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। এদের মধ্যে ৫ জন রোহিঙ্গা রয়েছে।’

এদিকে শনিবার (০৪ জুলাই) কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ে নিয়োজিত স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি আলোচনা সভা করে স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞরা। আলোচনা সভায় কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে আরও কিভাবে করোনা রোগী ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা যায় এবং করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞরা নানা পরামর্শ প্রদান করেন।

আলোচনা সভায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর বলেন, এটি একটি দুর্যোগ। এই দুর্যোগে স্বেচ্ছায় পৌর আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবকরা করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই মাঠে রয়েছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষদের সচেতন করতে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং আমরা আশা করি; এসব স্বেচ্ছাসেবকদের যেন সবাই সহযোগিতা করে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবকরা কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ করছে। যার মাধ্যমে এখন করোনা রোগীদের শনাক্ত ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা এবং আইসোলেশন রাখা সম্ভব হচ্ছে। যার ফলে ক্রমশঃ পৌর এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিম্নগামি।

তিনি আরও বলেন, করোনায় যারা আক্রান্ত হচ্ছে তারা ৯ দিন পর সুস্থ কোন ব্যক্তিকে সংস্পর্শ করলেও করোনাভাইরাস ছড়ায় না। সুতরাং এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্বিতীয়বার স্যাম্পল দেয়ারও প্রয়োজন নেই। আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি ২১ দিন পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে এখন যে স্বেচ্ছাসেবকরা কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ করছে তাদেরকে সবাই সহযোগিতা তথ্য দিয়ে সহযোগিতার করার আহ্বানও জানান তিনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, করোনা মহামারীতে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে স্বেচ্ছায় যে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন তারা সত্যিই একেক জন বীর। এই বীররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে বাঁচানোর জন্য করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই পরিশ্রম করছে। এখন যে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবকরা এটি সত্যিই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কারণ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের সেবা দেয়ার কাজগুলো এই স্বেচ্ছাসেবক করছেন। সুতরাং সবাই মিলে এই কাজে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রধান মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের প্রায় সাড়ে ৪ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবকরা। এর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষাসহ আইসোলেশনে রাখা সম্ভব হয়েছে। যার কারণেই কিন্তু কক্সবাজার পৌর শহরে দিন দিন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা নিম্নগামি। এটি সম্ভব হয়েছে এই স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবক কারণে। এই স্বেচ্ছাসেবকরা দিন রাত বিনামূল্যে কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস মুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তাদের জন্য এই সামান্য উপহার দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

আলোচনা সভার শেষে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ে নিয়োজিত ১২টি ওয়ার্ডের ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎকদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. তৌহিদুল আনোয়ার, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগ ১০ নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক দীপক দাশ, স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবক টিমের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ওয়াহিদ মুরাদ সুমন, মোঃ ফয়সল হুদা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

.coxsbazartimes.com

Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themesbcox1716222888