শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লোকে-লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক তাদেরকে জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতেই হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে নারীর মৃত্যু টেকনাফে অপহৃত উদ্ধার : অস্ত্র সহ চক্রের ৩ সদস্য আটক প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করা গেলে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা টেকনাফের ‘ডাকাত খায়ের’ সহযোগী নারী সহ গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এক শহীদ ও আহত ৪৭ জনকে সহায়তা প্রদান সেন্টমার্টিন থেকে সাগরে ফিরেছে ১৮৩টি কচ্ছপের বাচ্চা লুট করেই ৬ ট্রলার সহ ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা নিহত

এবার উল্টো চিত্র মসলার বাজারে

বিডিনিউজ : প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরম মসলার দাম বাড়ানো নিয়মে পরিণত হলেও এবার এসব পণ্যের দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আমদানিকারক ও পাইকাররা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবে গরম মসলার চাহিদা আগের চেয়ে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব পণ্যের দাম কম। যে কারণে এবারের ঈদের আগে কিছু মসলার দাম কমেছেও।

তবে ক্রেতাদের ভাষ্য, মহামারীর শুরুর দিকেই অধিকাংশ মসলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও দেশে তুলনামূলকভাবে দাম ততটা কমানো হয়নি।

কারওয়ানবাজারের মসলা আমদানিকারক অ্যারাইট স্টোরের আবদুল মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা মসলা ইমপোর্ট করেছি, কিন্তু বিক্রি করতে পারছি না। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের সামর্থ্য কমে গেছে। যে কারণে কম মসলা কিনছে তারা।”

তিনি জানান, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের এলাচির কেজি পাইকারি দাম চার হাজার টাকার মধ্যে। তবে মানভেদে এলাচির কেজি তিন হাজার টাকাও আছে।

“যে এলাচি তিন-চার মাস আগেও পাঁচ হাজার টাকা কেজি ছিল তা এখন কেজিতে এক হাজার টাকার মতো কমেছে।”

রামপুরা বাজারের খুচরা বিক্রেতা তাহের স্টোরের আবু তাহের বলেন, “মসলার দাম নতুন করে বাড়েনি ঠিক, তবে দুই-একটি ছাড়া অন্যগুলোর দাম তেমন কমেনি।”

তিনি বলেন, “এলাচি তো খুচরা সাধারণত এক কেজি কেউ কিনে না, তবে আমরা যা বিক্রি করি এতে ভালো মানেরটা পাঁচ হাজার টাকা কেজি পড়ে।”

এছাড়া পাইকারিতে দারুচিনির কেজি ৩৬০ টাকা, খুচরা বাজারে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, জিরা পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, খুচরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

পাইকারিতে প্রতি কেজি লবঙ্গ ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে এই মসলারটির এক কেজির দাম পড়বে এক হাজার টাকা। গোলমরিচ পাইকারিতে ১২০০ টাকা কেজি, আর খুচরায় দেড় হাজার টাকার বেশি বিক্রি করা হচ্ছে।

মালিবাগের মার্জিয়া স্টোরের মালিক খুরশেদ আলম বলেন, “গরম মসলার দাম বাড়েনি। বহু মানুষের কেনাকাটার সামর্থ্য কমে গেছে। বরং এলাচি কেজিতে এক হাজার টাকার মত কমেছে। আর জিরার কেজি ছিল ৬৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা; এটি এখন ৪০০ টাকার মধ্যে আছে। দারচিনি, লবঙ্গের দামও কমেছে।”

করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষের মধ্যে কেনাকাটার সমার্থ্য কমে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “অন্যান্য সময় শুক্রবার সকালের মধ্যে ১০ থেকে ১২ কেজি শুধু পোলাও চাল ও অন্যান্য মসলা বিক্রি করেছি। আজকে চার থেকে পাঁচ কেজি পোলাও চাল বিক্রি হয়েছে। এর মানে মানুষের কেনাকাটা কমে গেছে। তার জন্য দায়ী হলো করোনাভাইরাস।”

শান্তিনগরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, “শুধু মসলা কেন, কোনো জিনিসের দামই তো কম না। বাজারে সবকিছুই তো আকাশ ছোঁয়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তরিতরকারি থেকে শুরু করে মাছ-মাংসের দামও বেশি।

“আমাদের দেশে কোনো জিনিসের দাম একবার বাড়লে, তা যদি আন্তর্জাতিক বাজার বলি বা পাইকারি বাজার বলি, সেখানে কমলেও খুচরা বাজারে অত সহজে কমে না। এখানে সরকারের মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে।”

এদিকে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম কমেছে বলে জানিয়েছে সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি। প্রতিষ্ঠানটি বাজারের নিত্যপণ্যের দর নিয়ে জরিপ করে সপ্তাহিক বাজার মূল্য প্রকাশ করে।

তবে পেঁয়াজ, রসুন ও আদা নিয়ে টিসিবির ওই মূল্য তালিকার সাথে বাজারে চিত্র ভিন্ন পাওয়া যায়।

টিসিবির দাবি, পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ৩৫-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রসুন ৮০-১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে টিসিবির মূল্য তালিকায় থাকলেও বাজারে রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

আমদানি করা চীনা আদার কেজি টিসিবির তালিকায় ১৪০-১৬০ টাকা বলা হলেও তা বাজারে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি দোকানী মো. আনোয়ার বলেন, আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকার মত কমেছে। তবে পেঁয়াজের দাম কমেনি। অন্যান্য জিনিসের দাম স্থিতিশীল আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

.coxsbazartimes.com

Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themesbcox1716222888