নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফের পাহাড় কেন্দ্রিক স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আরও ৯ জনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে হোয়াইক্যং থেকে শামলাপুর যাওয়ার পথে দুইটি অটোরিকশা চালক সহ ৮ জনকে অপহরণ করা হয়। সোমবার বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকার থেকে অপহরণ করা হয় আরও একজনকে। এর আগে সোমবার সকালে পাহাড়ে গাছের চারা রোপন করতে গিয়ে বনকর্মি সহ ১৯ জনকে অপহরণের তথ্য জানানো হলেও এই অপহৃতদের প্রকৃত সংখ্যা ১৮ জন বলে মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতিমধ্যে এই ১৮ জনকে ছেড়ে দিতে ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিও করা হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধারে স্থানীয় জনতা, বনবিভাগের সহায়তায় পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন পাহাড়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে দুইটি অটোরিকশা থামিয়ে চালক সহ ৮ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শামলাপুর সিএনজি অটোরিকশার লাইনম্যান মো. আবদুর রহিম।
তিনি বলেন, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে হোয়াইক্যং থেকে আসা শামলাপুরগামী দুটি সিএনজি অটোরিকশা হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে পৌঁছালে ঢালা থেকে ডাকাতদলের সদস্যরা দুটি সিএনজির চালকসহ আনুমানিক ৮ জনকে অপহরণ করেছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে অপহৃতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শোভন কুমার শাহা জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং- শামলাপুর সড়কে দুইটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে চালকসহ যাত্রী অপহরণের ঘটনা শুনে অভিযান চালানো হচ্ছে। কতজন অপহরণ হলেন সেটার সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি। সিএনজি দুইটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাত ১১ টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নেরবড় ডেইল এলাকার বাসিন্দার নাজিম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে জসিম উদ্দিনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহারছড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম।
তিনি জানান, স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ১৫-২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে দক্ষিণ বড় ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাস্তার মাথা নিজ মুদির দোকান থেকে জসিমকে অপহরণ করে পাহাড়ের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপহরণের পর এখনও সন্ত্রাসীদের পক্ষে কোন যোগাযোগ করা হয়নি।
জসিমকে উদ্ধারেও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শোভন কুমার শাহা।
এর আগে সোমবার সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া পাহাড়ে বনবিভাগের জমিতে গাছের চারা রোপন করতে গিয়ে বনকর্মি সহ ১৯ জন অপহরণের কথা প্রচার হলেও তার সংখ্যা ১৮ জন বলে মঙ্গলবার সকালে জানিয়েছেন বনবিভাগের টেকনাফের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ।
তিনি জানান, বনবিভাগের কাজ করতে গিয়ে এদের অপহরণ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, এপিবিএন, র্যাব ও বনবিভাগে কর্মীসহ স্থানীয় জনগন পাহাড়ে অভিযান চালাচ্ছেন। কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারিরা ভুক্তভোগি পরিবারগুলোকে ফোন দিচ্ছে বলে তিনি জেনেছেন। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
অপহৃত বনকর্মি সাইফুল ইসলামের বাবা জুহুর আলম বলেন, তার ছেলে মুঠোফোন থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। আমার ছেলের বাবত একলাখ টাকাসহ ১৮ জনের জন্য ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। তাদের দাবি করা টাকা আমার নেই বললেই তারা ছেলেকে মারধর ও নির্যাতন করে ছেলের মাকে ফোন দিচ্ছে। র্যাব, পুলিশ নিয়ে ঝামেলা করলে অপহৃতদের লাশ করে পাঠানো হবে।
অপহৃত আনসার উল্লাহ ও আয়াত উল্লাহর মা খতিজা বেগম বলেন, দুই ছেলেকে অপহরণের পর এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে ফোন করেছিল সন্ত্রাসীরা। দাবি করা টাকা না ফেলে দুই ছেলের লাশ নিতে প্রস্তুত থাকার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
হ্নীলা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, পাহাড়ে থাকা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা একের পর এক অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরপর মুক্তিপণ আদায় করে ধরে নিয়ে যাওযা লোকজনকে ছেড়ে দেয়। সন্ত্রাসীদের দাবি করা টাকা না ফেলে অপহৃরিতদের নানান ধরনের নিযাতন করা হয়। এলাকার লোকজন অপহরণ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে আসছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, অপহৃতদের উদ্ধারে স্থানীয়রা সহায়তা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
সোমবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লে জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সীমান্ত পরিদর্শনে টেকনাফ যান। তিনি টেকনাফে অবস্থানকালিন সময়ে এই ১৮ জনকে অপহরণের ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, গহীন পাহাড়ে এই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সেখানে একক অভিযান চালানোর মত সরঞ্জাম নেই। তাই আমরা যৌথ অভিযান চালানোর জন্য জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত আমরা একটি সফল অভিযান চালাতে পারবো।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, অপহৃতদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্ব্বোচ সহযোগিতা করা হবে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের তথ্য বলছে, গত এক বছরের বেশি সময়ে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৩ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে ৯৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা, ৫৯জন রোহিঙ্গা নাগরিক। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৭৮জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
টেকনাফ থানার তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৮আগষ্ট থেকে ডিসেম্বর এই পর্যন্ত টেকনাফ থানায় অপহরণের মামলা হয়েছে ১৪ টি। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা অন্তত ৬৫। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ জনকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের জন প্রিয় স্পট সুগন্ধ পয়েন্ট; যেখানে সারা বছর পর্যটকের…
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক বা প্রতিষ্ঠান হউক তাদেরকে জনগনের কাছে…
নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়ায় তামাক চুল্লীতে জ্বালানি দিতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে এক নারী নিহত হয়েছে।…
নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফে নৌবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে এক অপহৃতকে উদ্ধার এবং তিন…
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, ২০২৪…
টেকনাফ প্রতিবেদক : টেকনাফে পুলিশ ও নৌবাহিনী যৌথ অভিযানে এক নারী সহযোগীসহ কুখ্যাত ডাকাত আবুল…