নিজস্ব প্রতিবেদক : রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপ এলাকা থেকে চার শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে এপিবিএন।

তবে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রাখলেও অপহৃত শিক্ষার্থীদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার সকালে টেকনাফের ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আটকরা হল, টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের বাসিন্দা নজির আহাম্মদের ছেলে নুর সালাম (৫০) ও নুর সালামের মেয়ে রনজন বিবি (১৩) এবং একই ক্যাম্পের মোচনী পাড়ার আবুল কাদেরের ছেলে সাদ্দাম মিয়া। তারা অপহরণ ঘটনায় জড়িত মোহাম্মদ ইব্রাহিমের স্বজন।

অপহরণ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠা জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম টেকনাফের ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এই দুই রোহিঙ্গা রামুর পেঁচারদ্বীপ এলাকায় বাতিঘর নামের একটি আবাসিক কটেজের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিল। সেই সুবাদে জাহাঙ্গীর আলম ও মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে স্থানীয় চার শিক্ষার্থীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
অপহৃতরা হল, উখিয়া উপজেলার সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র জাহেদুল ইসলাম, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মিজানুর রহমান,, মোহাম্মদ কায়ছার ও মিজানুর রহমান নয়ন। তারা সবাই রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপ এলাকার বাসিন্দা।
গত ৭ ডিসেম্বর সকালে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপ এলাকা থেকে টেকনাফের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের কথা বলে স্থানীয় চার শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের দুই রোহিঙ্গা। পরে এসব শিক্ষার্থীদের টেকনাফের ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অজ্ঞাত স্থানে জিন্মি করে মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল অপহরণকারি চক্র।

অপহৃতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, মুক্তিপণের টাকার দাবিতে অপহৃত শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে অপহরণকারিরা। টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়েছে।
১৬ এপিবিএন এর অধিনায়ক তারিকুল বলেন, মুক্তিপণের দাবিতে চার শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে জিন্মি রাখার খবর পাওয়ার পর থেকে এপিবিএন সদস্যরা টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শনিবার সকালে টেকনাফের ২৬ নম্বর ক্যাম্প থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ রোহিঙ্গা আটক করা হয়েছে।

“ আটকরা অপহরণ ঘটনায় জড়িত মোহাম্মদ ইব্রাহিমের আত্মীয়-স্বজন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ” বলেন তিনি।
টেকনাফ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খোরশেদ আলম বলেন, অপহৃত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন ও র‌্যাবসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার সহ নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত অপহৃত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার সকালে অপহরণ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এপিবিএন সদস্যদের হাতে আটক ৩ রোহিঙ্গাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

nupa alam

Recent Posts

লোকে-লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের জন প্রিয় স্পট সুগন্ধ পয়েন্ট; যেখানে সারা বছর পর্যটকের…

3 days ago

বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক তাদেরকে জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতেই হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক বা প্রতিষ্ঠান হউক তাদেরকে জনগনের কাছে…

3 days ago

চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়ায় তামাক চুল্লীতে জ্বালানি দিতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে এক নারী নিহত হয়েছে।…

4 weeks ago

টেকনাফে অপহৃত উদ্ধার : অস্ত্র সহ চক্রের ৩ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফে নৌবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে এক অপহৃতকে উদ্ধার এবং তিন…

4 weeks ago

টেকনাফের ‘ডাকাত খায়ের’ সহযোগী নারী সহ গ্রেপ্তার

টেকনাফ প্রতিবেদক : টেকনাফে পুলিশ ও নৌবাহিনী যৌথ অভিযানে এক নারী সহযোগীসহ কুখ্যাত ডাকাত আবুল…

4 weeks ago