মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও পুলিশি হয়রানী বন্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

press brifing pic

নিজস্ব প্রতিবেদক: সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন মহেশখালী উপজেলার শহীদ এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে ওই পরিবারটি বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মামলা সহ নানাভাবে পুলিশী হয়রানী করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন। এর থেকে অবসান চেয়ে কক্সবাজার শহরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গা পাড়ার মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র আনছারুল করিম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বসতঘরে আগুন দিয়ে তাদের বড়বোন শামশুন্নাহারকে গুলি করে হত্যা করে। সেই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সদস্যরা হলো, বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গা পাড়ার তালিকাভুক্ত রাজাকার মৃত ফজল করিমের পুত্র নাছির উদ্দিন, নুরুল আজিম, খোরশেদ আলম, মোজাম্মেল হক ও ছৈয়দ নুর, জামাতা ও মৃত আবদু সত্তারের পুত্র মোহাম্মদ ফোরকান, মোহাম্মদ ফোরকানের পুত্র রাশেদ খান, ফয়সাল, শিমুল ও কালাইয়া, মৃত ওয়াহেদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ শফি ও মোঃ ছিদ্দিক, মৃত নুরুল ইসলাম প্রঃ কালা মনুর পুত্র মকছুদ মিয়া, আবদুল গফুর ও মোহাম্মদ বেলাল, মো: শফির পুত্র আবু সুফিয়ান ও আবু তালেব, মৃত কালা মিয়ার পুত্র নজরুল ইসলাম, হোছেন আহমদ ও মোহাম্মদ জাকির, কামাল পাশার পুত্র আবদুল আজিজ ও হেলাল উদ্দিন, মোঃ ছিদ্দিকের পুত্র সালাউদ্দিন, মৃত উলা মিয়ার পুত্র নুরুল আবছার, মোঃ বকসুর পুত্র মোঃ রশিদ, সিরাজ মিয়ার পুত্র তালেব আলী। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের এ সদস্যরা মিলে মহেশখালীতে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিচালনা করে। ওই সন্ত্রাসীরা ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর সিপাহী পাড়ার আবুল হোসেনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে তার ভাই নেছারুল করিমকে। এ সংক্রান্ত বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি’তে তদন্তাধীন রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল ওই হত্যা মামলার ৬নং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোজাম্মেল হককে মহেশখালী থানার এসআই রহমত উল্লাহ গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের খবর জানতে পেরে ওই হত্যা মামলার তদন্তকারী অফিসার সিআইডি বিভাগের এসপি মিজানুর রহমান ওই আসামীকে ছেড়ে না দেওয়ার জন্য মহেশখালী থানায় অবহিত করেন। কিন্তু উক্ত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতেও সোপর্দ না করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২০১৩ সালের ১৯ এপ্রিল বড় মহেশখালীর নতুন বাজারের মাঝের গলি থেকে তাদের অপর ভাই জয়নাল আবেদীনকে অপহরণ করে দুটি চোখ উপড়ে নেয় একই সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মামলা করে। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলার ধার্য দিনে মহেশখালী আদালতে গেলে আসামীরা আনছারুল করিম এবং জয়নালকে মারধর করে। এঘটনায় আনছারুল করিম বাদি হয়ে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করে। এর পর থেকে ধারাবাহিক হুমকি দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল সন্ত্রাসীরা পরস্পর যোগসাজসে মহেশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক সহ কয়েক অফিসারকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বশীভূত করে তার বোন নুর নাহার বেগম (৫০) এর বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ বাড়ীতে লুটপাট চালায়। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ও চোলাই মদ দিয়ে সাজানোভাবে আটকও করে। পরে এসআই ফখরুল আহম্মদ মিনহাজ বাদী হয়ে তার বোন ছাড়াও বোনের ছেলে আরিফ উল্লাহ, অপর ভাই মাহমুদুল করিমকে আসামী করে মহেশখালী থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করে।
এতে অভিযোগ করা হয়, পুলিশ সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা করেছে এটি। এরপর গত ২৮ এপ্রিল সন্ত্রাসীরা মহেশখালী থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাদের স্বত্ব দখলীয় ভাদিতল্যা ঘোনার চাষী জমিতে পানি দেয়ার মোটর সহ জেনারেটর লুট করেছে। এ জন্য সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আনছারুল করিম ছাড়াও জয়নাল আবেদীন, নিহত নেচারের স্ত্রী কহিনুর আকতার, তাদের পরিবারের সদস্য বুরি খাতুন, দিলুআরা, শাহানা আকতার, আয়েশা, সাইমা, প্রমি, সাইফুল হাসান সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like