তিন দিনের জলকেলি উৎসব শুরু সোমবার

Snapshot - 10

জলকেলির ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৬ এপ্রিল :
কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহি জলকেলি উৎসব শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে। টানা ৩ দিনের উৎসবের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছে রাখাইনরা।
রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষ পঞ্জিকা অনুসারে, রোববার (১৬ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে ১৩৭৮ মগীসন। সোমবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে রাখাইনদের নববর্ষ ১৩৭৯ সন। প্রতিবছর এই নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের সামাজিক নিয়ম মতে আয়োজন করে পুরনো বছরের বিদায় ও নতুন বছর বরণ অনুষ্ঠান। রাখাইনদের ভাষায় বলা হয় “সাংগ্রেং পোওয়ে’ বা বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়েছে ১৩ এপ্রিল থেকে।
রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, প্রথম দিন ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পালিত হয় ‘ফারা রিসো পোওয়ে’ বা বুদ্ধের স্নান উৎসব। ওই দিন রাখাইন শিক্ষার্থীরা বুদ্ধ মুর্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করান। পুরোহিত, দায়ক ও শিষ্যদের সহযোগিতায় সুগন্ধ দ্রব্য ও চন্দনের পানি, নানা রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে ধর্মীয় নানা আচারণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মুর্তি ধুয়ে দেয়া হয়। উৎসবের ২য় দিন ১৪ এপ্রিল শুক্রবার পালিত হয়েছে ‘রছা ফরা রিসো পোওয়ে’ বা বাড়ির বুদ্ধের স্নান উৎসব। উৎসবের ৩য় ও ৪র্থ দিন ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ২ দিনব্যাপী চলছে শিশু-কিশোরদের ‘সাংগ্রেং পোওয়ে’। রাখাইন সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোররা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে এ উৎসব পালন করছে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ “মাহা সাংগ্রেং পোওয়ে” বা পানি খেলা শুরু হবে কাল সোমবার (১৭ এপ্রিল)। রাখাইনদের নিয়ম মতে, এলাকা ভিত্তিক রাখাইন নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পড়ে সারিবদ্ধভাবে নানারকম বাদ্যযন্ত্র ও নাচে গানে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে এ জলকেলিতে মেতে উঠবে। প্যান্ডেলে পানির পত্র নিয়ে সারি বদ্ধ হয়ে থাকবেন রাখাইন তরুনীরা। শোভযাত্রা সহকারে প্যান্ডেলে আসা তরুণ তার পছন্দের তরুণীকে পানি নিক্ষেপ করে প্রথমে আমন্ত্রণ জানাই। উত্তরে তরুণীও তাকে পানিতে পানিতে মাতিয়ে রাখবে।
টানা ৩ দিন এ উৎসব চলবে বলে জানান বাংলাদেশ আদিবাসি ফোরাম কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মংথেœহ্লা রাখাইন।
তিনি জানান, কক্সবাজার শহরের এবার ১১ টি প্যান্ডেলে চলবে এ উৎসব। ইতিমধ্যে এর প্রস্তুতিও শেষ। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসবে তাদের ঐতিহ্যবাহি ও প্রিয় খাবার নিয়ে এলাকা ও বন্ধুদের নিয়ে বনভোজনও চলবে। অনুষ্ঠানের এই ৩ দিন পঞ্চশীল ও অষ্টশীল পালন করা হয়। এটা পালনের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান দিক হচ্ছে ধর্মীয় আচারাদি পালন, আনন্দ উপভোগ, রাখাইন সংস্কৃতি ধারায় সৃষ্ট কৃষ্টিকে লালন করা।
এছাড়া জেলার টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়াসহ অন্যান্য উপজেলায় এই উৎসব পালন করা হবে।
এ উৎসবে রাখাইনদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের লোকজন এবং পর্যটকরা উপভোগ করেন। আর এর জন্য সার্বিক নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like