চৌফলদন্ডীতে নানা নির্যাতনের শিকার এক রাখাইন পরিবার জীবন ঝুকিতে

saufaldandi pic

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৩ এপ্রিল: কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডীর একটি রাখাইন পরিবার নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। একের পর এক নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবন ঝুকিতে অসহায় হয়ে পড়েছে এ পরিবার। পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন আর কত অত্যাচার সহ্য করতে হবে তাদের?

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ১নং ওয়ার্ডের মধ্যম রাখাইন পাড়ার এমরাউ  রাখাইন গং এর পৈত্রিক ভাবে প্রাপ্ত জমি ১৯৯২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহন করেন। উক্ত জমিতে এমরাউ রাখাইন গং ভোগ দখলে ছিল। পরবর্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড হইতে ২০১৫ সালে ১০ সেপ্টেম্বর হইতে ২০২০ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদী ইজারা নেন ওই পরিবারের মিজ্য রাখাইন। কিন্তু উক্ত জমির প্রতি লুলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানিয় একটি চক্রের। স্থানিয় মংছা রাখাইন, ফাবু রাখাই, মংহ্লা থেন, ছেনহ্লা মং, থেন ওয়ান, ছেন থেন উ, ছেন থেইন হ্লা, মায়ো রাখাইন সহ চক্রটি এ¤্রাউন রাখাইন পরিবারের লিজ নিয়ে ভোগ দখলে থাকা জমিটি জবরদখল চেষ্টা শুরু করে। ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করতে এ চক্রটি এমরাউ রাখাইন পরিবারের উপর শুরু করে নানা নির্যাতন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ রাত ১১ টায় এমরাউ রাখাইনের বসত ঘরে হামলা চালানোর পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২ টায় মংছা রাখাইনের নেতৃত্বে চক্রটি ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দেয়ায় এমরাউ রাখাইনকে ব্যাপক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম ও শ্লিলতা হানি করে। এসময় এ¤্রাউন রাখাইনের বসতঘরে ভাংচুর ও স্বর্ণালংকা লুট করে হামলাকারীরা। ২০ এপ্রিল দুপুর ১টায় পুনরায় জমি জবরদখলের চেষ্টা চালালে বাধা দেয়ায় এমরাউ রাখাইনের ভাই আক্য মংকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আক্য মং সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টায় এমরাউন রাখাইনের বসতঘরে পুনরায় হামলা চালিয়ে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৫ লাখ টাকা মূল্যের ১শত মন নাপ্পি জীপ ভর্তি করে লুট করে চক্রটি। এ সময় এমরাউ রাখাইন ও আক্য মংয়ের স্ত্রীকে পিটিয়ে শ্লিলতা হানি করে। ২১ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় পুনরায় ওই জমির ঘেরা-বেড়া ভাংচুর করে জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দেয়ায় ¤্রাে মা রাখাইনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনার ২দিন পর ২৩ মে পুনরায় হামলা করে ক্যাচিং রাখাইন, তার মা বিমে রাখাইন ও ভাবি কেয়াইন ছেনমেকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় বসতঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এসব ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় জিআর মামলা নং- ৩৮১/১৬ ও ৩০২/১৬, জিডি নং- ২০৪৭, তাং-৩১.০৩.১৬, কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং-৪ এ সিআর- ৩৭৮/১৬, সিআর- ৪১০/১৬, সিআর- ৪৮৬/১৬ মামলা দায়ের করেন।
এসব মামলা থেকে আসামিরা জামিন নেয়ার পর সকল মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে। চক্রের ৭/৮জন অস্ত্রধারী গত ২৩ আগষ্ট সকালে ক্যাচিং রাখাইনের বাড়ীতে গিয়ে মামলা প্রত্যাহার না করলে মেরে লাশ গুম করা, বসতঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা, মামলায় জড়িয়ে হয়রাণী করার হুমকি দেয়। এতে সদর থানায় জিডি- ১২৪১, তাং- ২৪.০৮.১৬ দায়ের করা হয়।
সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল এ¤্রাউ রাখাইন পরিবারের নাপ্পি ব্যবসায় কাজ করা মিজানুর রহমানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এছাড়াও নির্যাতিত এ¤্রাউন রাখাইনের সদস্যদের আসামী করে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে
হামলাকারী চক্রের ছেন থেন উ।
একের পর এক নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় হয়ে পড়া এ¤্রাউ রাখাইন পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন আর কত অত্যাচার সহ্য করতে হবে তাদের? মংছা রাখাইন, ফাবু রাখাই, মংহ্লা থেন, ছেনহ্লা মং, থেন ওয়ান, ছেন থেন উ, ছেন থেইন হ্লা, মায়ো রাখাইন সহ চক্রটি কি আইনের উর্দ্ধে!

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like