আদালতে যাননি খালেদা, শুনানি পেছালো

02_Khaleda+Zia+Court_120117_0002আইন আদালত ডেস্ক : খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় সোয়া পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের দুই মামলায় তার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় শুনানির জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন।

এই বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ইতিমধ্যে হাই কোর্টে আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার তার আইনজীবীরা ওই আবেদনের বিষয়টি জানিয়ে এবং খালেদার অসুস্থতার কথা বলে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি মুলতবির আবেদন করেন।

খালেদার অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, “গতকাল আমরা হাই কোর্টে আবেদন করেছি, বিষয়টি শুনানির অপেক্ষায়। আজকের মতো এই আদালতে শুনানি মুলতবি করা হোক।”

বিচারক আবেদনে সাড়া দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে থাকা মামলা দুটিতে নতুন তারিখ দেন।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ১ ডিসেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন খালেদা। ওই ট্রাস্টের তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে সুবিচার চান তিনি।

পরে খালেদার আবেদনে এ মামলার ৩২তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে মামলাটির প্রথম অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের তখনকার সহকারী পরিচালক নূর উদ্দিন আহমেদকে নতুন করে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি আদালত খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্য শোনার জন‌্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন রাখে।

ওই দিন খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু না বলে বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানানোর পর এ মামলায় সাফাই সাক্ষের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন এই বিচারক।

আর জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৩০ জানুয়ারি খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন নির্ধারিত থাকলেও তার আইনজীবীরা সেদিন মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন করেন, যা নিয়ে দিনভর আইনজীবীদের বিতণ্ডা চলে।

পরে খালেদার আইনজীবীদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার প্রধান আসামি খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন ও পুনঃতদন্তের আবেদন নিয়ে শুনানির জন‌্য ৯ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ দেন।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলা

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছরের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়।

এ মামলায় মোট ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে দুদক ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

এছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

সূত্র : বিডিনিউজ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like