মৃত্যুদণ্ডাদেশের পাঁচজনসহ ২৬ আসামি হাই কোর্টে খালাস

HCআইন আদালত ডেস্ক :  নারায়ণগঞ্জে ১৯ বছর আগের আবদুল লতিফ হত্যা মামলায় জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন এবং যাবজ্জীবন সাজার ২১ আসামিকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট।

আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাবেয়া ভূঁইয়া ও বাহাউদ্দীন আল রাজী। এ ছাড়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন বাহার উদ্দিন আল রাজী।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী বজলুর রশিদ।

রায়ের পর মনিরুজ্জামান রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সুরতহাল প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য সংগতিপূর্ণ নয় বলে হাই কোর্টের কাছে মনে হয়েছে।

“আবদুল লতিফকে হত্যার ঘটনায় চাক্ষুষ সাক্ষী না থাকায় হাই কোর্ট আসামিদের খালাস দিয়েছে। তবে হাই কোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।”

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার মার্দাসাদী গ্রামের তাঁত ব‌্যবসায়ী আব্দুল লতিফকে ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে হত‌্যা করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, একদল লোক ওই রাতে পুলিশ পরিচয়ে আব্দুল লতিফের বাড়িতে ঢোকে এবং তার ভাই হযরত আলী ও তার ছেলে শাহীনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে তারা লতিফকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে তার লাশ পাওয়া যায় আড়াইহাজার জোয়ানদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি পুকুরে।

ওই ঘটনায় লতিফের ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ২৮ জনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের তখনকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জালালউদ্দিন এ মামলার রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরা হলেন- শফু ওরফে সোহেল, বারেক, আফসারউদ্দিন, শওকত আলী ও ওমর আলী।

এছাড়া মামলার বাকি ২১ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

এই ২১ জন হলেন- মঞ্জুরুল হক, শহীদ, কামাল, আক্তার হোসেন, ফাইজউদ্দিন, নুরুল ইসলাম, বিল্লাল, হাসান আলী, লিয়াকত আলী, ইউনুস আলী, কাওয়াল কালাই, আফাজউদ্দিন, হেলালউদ্দিন, আক্তার (১), আক্তার (২), কফিলউদ্দিন, শামসুল হক, হেকমত, বেলা, ফালান ও আলম।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ওই বছরই হাই কোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। শুনানি শেষে হাই কোর্ট সোমবার আসামিদের সবাইকে খালাসের রায় দেয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল জানান, জজ আদালতে মৃত‌্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের মধ‌্যে ওমর আলী মারা গেছেন। বাকি চারজন কারাগারেই আছেন।

বিচারিক আদালতের রায়ের সময় যাবজ্জীবনের আট আসামি পলাতক ছিলেন। হাই কোর্টের রায়ের সময় কতজন পলাতক আছেন- সে তথ‌্য জানা যায়নি।

সূত্র : বিডিনিউজ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like