সাত মাসে রপ্তানি আয় ২০ বিলিয়ন ডলার

01_Garments+worker_Yarn_Fibre_Thread_Gazipur_AP_090915_0022অর্থনীতি বাণিজ্য ডেস্ক : চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ মোট ২ হাজার ১১ কোটি ৮১ (২০ দশমিক ১১ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি।

তবে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। এই সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ বিদেশি মুদ্রা কম এসেছে।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে পোশাকের দাম কমায় রপ্তানিতে ধীরগতি চলছে। “আমরা আশা করেছিলাম, গত অর্থবছরের মতো এবারও ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা গেলেও গতবারের মতো প্রবৃদ্ধি হবে না।”

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের দরপতন হয় ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।ওই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশে গড়ে দরপতন হয় দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের দরপতন হয় ১ দশমিক ১ শতাংশ। ইউরোপের বাজারে দর কমেছে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এর মধ্যে উভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৩৫ কোটি ২৯ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ খাত থেকে আয় কমেছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ শতাংশ বেড়ে ৮০৬ কোটি ডলার হয়েছে। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি (৩৭ বিলিয়ন) ডলার।

সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয় ৩৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ সময়ে আয় হয়েছে ৩১৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ এক হাজার ৯২৬ কোটি ৯৫ লাখ আয় করেছিল।

অন্যান্য খাতের আয়

অন্যান্য খাতের মধ্যে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৪ শতাংশ।চিংড়ি রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কৃষিজাত পন্য রপ্তানি বেড়েছে ২ শতাংশের মতো। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে তামাক রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশের মতো। পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাইসাইকেল রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like