বিচারকের প্রতি খালেদার অনাস্থা

03_Khaleda+Zia_BNP_Court_020217_0003আইন আদালত ডেস্ক : জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা এবং এ মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

তবে খালেদার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া দাতব‌্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ দিয়েছেন বিচারক।

ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

পুরান ঢাকার বকশীবাজারে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত খালেদার আবেদন নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোল চলে।

খালেদার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কয়েকজন। অন‌্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মোশাররাফ হোসেন কাজল।

বিকালে আদালত নেমে যাওয়ার পর কাজল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত পিটিশন রিজেক্ট করেছে। ৯ ফেব্রুয়ারি শুনানির নতুন তারিখ রাখা হয়েছে।”

দিনভর বাদানুবাদ

খালেদা জিয়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছালে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিন এ মামলায় খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। পাশাপাশি আগের দিন খালেদার আইনজীবীরা মামলাটি পুনঃতদন্তের যে আবেদন করেছিলেন, সে বিষয়েও শুনানি হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু আদালত পুনঃতদন্তের আবেদনের শুনানির আগে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি করতে চাইলে বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানান তার আইনজীবীরা।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে করা ওই আবেদনে খালেদার আইনজীবীরা বলেন, এ আদালতে তারা ন্যায়বিচার পাবেন না বলে মনে করছেন এবং আদালত ও বিচারক পরিবর্তনের জন্য হাই কোর্টে যাবেন।

আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন চিৎকার করে বিচারকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে থাকলে দুদকের আইনজীবী কাজল বলেন, “আপনিতো শুনানির অন‌্য দিনগুলোতে আদালতে আসেন না। যেদিন খালেদা জিয়া আদালতে আসেন শুধুমাত্র সেদিন তাকে দেখানোর জন্য আপনি এজলাসে উপস্থিত হন। আপনি ন্যায়বিচার চান না। ন্যায়বিচারে হস্তক্ষেপ করার জন্য আপনি ভূমিকা নেন।”

এ পর্যায়ে বিচারক খালেদার আইনজীবীদের বলেন, “আমি দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অধীনে এ মামলার বিচার করছি। এখানে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ‘নো কনফিডেন্স পিটিশন’ কীভাবে দিলেন?”

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ সময় বলেন, দুদক আইনেও অনাস্থা জানানো যায়। আর দুদক আইনে যদি কিছু না থাকে বা দুদক আইন যদি কোন বিষয় অসম্পূর্ণ থাকে তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে তা করা যায়।

এরপর দুই পক্ষের তুমুল তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বেলা সোয়া ২টার দিকে আদালত দুপুরের খাবারের বিরতিতে যায়।

বিরতির পর এজলাসে ফিরে বিচারক খালেদার আইনজীবীদের করা অনাস্থার আবেদন নাকচ করে দেন। সেই সঙ্গে মামলা পুনঃতদন্তের আবেদনও নাকচ করা হয়।

আদেশে বলা হয়, অভিযোগ গঠনের তিন বছর পরে মামলার শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের আবেদনের সুযোগ নেই।

এই আদেশ নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তুমুল হট্টগোল শুরু করেন। পরে এক পর্যায়ে খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রক্রিয়া শুরু করে আদালত জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার ৩২ সাক্ষীর দেওয়া সাক্ষ্য পড়ে শোনাতে শুরু করেন।

সাক্ষ্য পড়ে শোনানোর পর বিচারক মামলার আসামি খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান- তিনি দোষী না নির্দোষ।

এ সময় খালেদা জিয়া আদালতের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলেন, তার আইনজীবীরা আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন, তিনিও এ আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছেন।

পরে খালেদার আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করলে বিচারক দুই মামলার শুনানির জন‌্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দেন। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে খালেদা আদালত থেকে বাসার উদ্দেশ‌্যে রওনা হন।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে দুদক ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

এছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলা

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছরের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়।

এ মামলায় মোট ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like