কোটি কোটি বছর আগের পৃথিবীর বৈশিষ্ট্য চাঁদে!

moon20170201152214বিজ্ঞান ডেস্ক : পৃথিবী নামের আমাদের এই সাড়ে চারশ কোটি বছরের পুরাতন গ্রহ সম্পর্কে অনেক কিছুই আমরা জানি। বিপরীতে আবার অনেক কিছুই জানি না, বুঝতেও পারি না।

সম্প্রতি গবেষকরা নতুন কিছু বিষয় জানতে পেরেছেন, যা আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে বিশেষত বহু বহু বছর আগে এর বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল তা জানতে সাহায্য করবে। তাদের মতে, পৃথিবীর কোনো কিছুই হারায় না।

এমন কি, কোটি কোটি বছর আগের বর্তমান পৃথিবীর উপরিস্থ পরিবেশ বা আবহাওয়া কেমন ছিল তাও জানা যেতে পারে।

সম্প্রতি ন্যাচার অ্যাস্ট্রোনমি পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্তারো টেনাডা ও তার সহযোগীরা এ গবেষণা করেছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে তারা বলেছেন, কোটি কোটি বছর আগে কেমন ছিল এ পৃথিবীর পরিবেশ, তা জানা যাবে চাঁদ থেকে। কেননা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে আয়ন গ্যাস যাচ্ছে চাঁদে, যাতে অক্সিজেনও রয়েছে। এই অক্সিজেন গিয়ে জমা হচ্ছে চাঁদের পৃষ্ঠের মাটির এক মাইক্রোমিটার গভীরে।

গবেষকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া চলছে ২৫০ কোটি বছর আগে থেকে যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের উপস্থিতি ঘটে। সুতরাং সে সময়ে পৃথিবীর পরিবেশ কেমন ছিল, তা জানা যাবে চাঁদের বর্তমানের মাটি পরীক্ষা করেই।

টেনাডা দলের মতে, পৃথিবীর জীবজগত ব্যাপকভাবে এই গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্রের কাছে ঋণী। কেননা সূর্য থেকে যে উচ্চশক্তির আয়ন গ্যাস নির্গত হয় তা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে এই চৌম্বক ক্ষেত্র। কিন্তু চাঁদের এ ধরনের রক্ষাব্যুহ নেই। তবে প্রতিমাসের পাঁচ দিন চাঁদকে আয়ন গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে পৃথিবীর আয়ন গ্যাস।

গবেষকরা বলেন, সৌর বায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শুধু পাঁচ দিন চাঁদকে রক্ষা করে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে নির্গত গ্যাস। কেননা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের পরিভ্রমণকালের এই পাঁচ দিনই শুধু পৃথিবীর গ্যাস চাঁদে যেতে পারে।

কাগুইয়া মহাকাশযান থেকে পাঠানো তথ্য পর্যালোচনা করে গবেষকরা দেখতে পান, ওই পাঁচ দিন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল  থেকে নির্গত গ্যাস চাঁদে যায়। এতে অক্সিজেনও রয়েছে। ফলে ওই কয়েক দিন সৌর আয়ন থেকে রক্ষা পায় চাঁদ।

সমীক্ষায় বলা হয়, পৃথিবী থেকে নির্গত এই গ্যাস চাঁদের পৃষ্ঠদেশের মাটির এক মাইক্রোমিটার গভীরে গিয়ে জমা হয়। এর অর্থ হচ্ছে, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর পরিবেশ কেমন ছিল তা জানতে আমরা চাঁদের মাটি পরীক্ষা করে দেখতে পারি। তবে এক্ষেত্রে একটি সমস্যাও আছে। আর তা হলো- সেখানে সৌর গ্যাস আর পৃথিবীর গ্যাসের অস্তিত্ব আলাদা করা খুবই কঠিন হবে।

-রাইজিংবিডি/

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like