৬ সদস্যের সার্চ কমিটি করতে চিঠি

31_Bangabhaban_AM_201216_0003জাতীয় ডেস্ক : নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস‌্যদের বাছাইয়ের জন‌্য ছয় সদস‌্যের সার্চ কমিটি হচ্ছে এবার। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাওয়ার পর সার সংক্ষেপ তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন সংক্রান্ত চিঠি আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।”

আর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি। সার্চ কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর আমরা আদেশ জারি করব। আমরা আমাদের কাজ শেষ করেছি।”

এই সার্চ কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে, তাদের মধ‌্যে থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ সদস‌্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সার্চ কমিটির সদস‌্যদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ছয় সদস্যের সার্চ কমিটিতে সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ‌্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ‌্যালয়ের একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন।

গতবারের মত এবারও সার্চ কমিটির প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান বিচারপতির কাছে সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আপিল বিভাগ থেকে একজন এবং সদস‌্য হিসেবে হাই কোর্ট বিভাগের একজনের নাম চেয়ে চিঠি পাঠাবে বলে জানা গেছে।

কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এবারও সার্চ কমিটি গঠনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এর সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে।

একটি আইনের অধীনে রাষ্ট্রপতির ইসি গঠন করার কথা সংবিধানে বলা হলেও সেই আইন গত সাড়ে চার দশকেও হয়নি।

আগের রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পর একটি সার্চ কমিটি গঠনের মধ‌্য দিয়ে মনোনীতদের নামের তালিকা থেকে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে গঠিত ওই সার্চ কমিটি সিইসি পদের জন‌্য দুজন এবং নির্বাচন কমিশনার পদে আট জনের নাম প্রস্তাব করে।

তাদের মধ‌্য থেকে সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ, জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন জিল্লুর রহমান।

কাজী রকিবের সেই ইসি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেয়াদ শেষ করবে। এরপর অনধিক পাঁচজনকে নিয়ে নতুন ইসি গঠন করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে।

আইন না হওয়ায় এবারও একই পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে এক মাসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিসহ মোট ৩১টি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বসে তাদের মতামত শোনেন তিনি।

অধিকাংশ দল আইন প্রণয়নের তাগিদ দিলেও তা না হওয়া পর্যন্ত সার্চ কমিটির পক্ষে সায় দেয়। সার্চ কমিটিতে কাদের রাখা যায়, সে প্রস্তাবও এসেছে দলগুলো থেকে।

সূত্র : বিডিনিউজ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like