আখেরি মোনাজাতে শেষ বিশ্ব ইজতেমা

Ijtema-Akheri-Monajat-06ইসলাম ডেস্ক : দ্বিতীয় পর্বে আখেরি মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগতীরে শেষ হয়েছে তাবলিগ জামাতের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা।

হেদায়েতি বয়ান, ধর্মীয় আলোচনা ও ইবাদতের মধ‌্য দিয়ে তিনটি দিন কাটানোর পর রোববার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। আরবি ও উর্দু ভাষায় ৩৩ মিনিটের এ মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের মারকাজের শুরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ সাদ।

মোনাজাতে অতীতের সব ভুলের জন‌্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের সব মুসলমানের মঙ্গল কামনা করা হয়। মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নেয়।

তুরাগতীরের ইজতেমা ময়দান ছাড়াও দক্ষিণে খিলক্ষেত, উত্তরে বোর্ডবাজার, পূর্বে টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরী ও পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শামিল হয় এই মোনাজাতে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ৯৬টি দেশের প্রায় ছয় হাজার মুসলমান এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেন বলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মো. মোমিনুল ইসলাম জানান।

আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার হাজারো মুসলমান ভোরের কুয়াশার মধ‌্যে পায়ে হেঁটেই রওনা হন টঙ্গীর পথে।

অনেকে যানবাহনের বিড়ম্বনা এড়াতে দুই-একদিন আগেই টঙ্গীতে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি কিংবা হোটেলে অবস্থান নিয়ে ছিলেন। আর ১৭ জেলা থেকে আসা কয়েক লাখ মানুষ গত তিন দিন ধরে অবস্থান করছেন ইজতেমা মাঠে নির্ধারিত খিত্তায়।

মোনাজাতের আগে ইজতেমা ময়দানে চটের সামিয়ানার নিচে বয়ান শোনেন লাখো মানুষ। ময়দানে জায়গা না পেয়ে আশেপাশের অলিগলি ও রাস্তায় পাটি, খবরের কাগজ, পলিথিন বিছিয়ে তাতেই অবস্থান নেন অনেকে। ইজতেমা ময়দানের আশপাশে প্রতি বদনা পানি ১০ টাকা দামেও বিক্রি করতে দেখা যায়।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু নারীও এসেছিলেন মোনাজাতে অংশ নিতে। ময়দানে ঢোকার অনুমতি না থাকায় তারা আশপাশের বিভন্ন কারখানা ও আবাসিক ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে হাত তোলেন।

ইজতেমার মাঠে পৌঁছাতে না পেরে হাজার হাজার মানুষকে কামারপাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিতে দেখা যায়। অনেকে বিমানবন্দর গোল চত্বর কিংবা উত্তরা থেকেও আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণও উপস্থিত ছিলেন আখেরি মোনাজাতে।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারখানা, বিপণিবিতান ও অফিস ছিল বন্ধ। মোনাজাত শেষে টঙ্গী থেকে সবার বাড়ি ফেরার সুবিধার জন‌্য ১৪টি বিশেষ ট্রেনের ব‌্যবস্থা করে রেল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু বিপুল সংখ‌্যক মানুষের তাৎক্ষণিক রওনা হওয়ার ব‌্যবস্থা না থাকায় অনেক মানুষ হেঁটেই যাত্রা করেন। যারা বাস বা পিকআপে উঠতে পেরেছেন, তাদের ভাড়া গুণতে হয় অনেক বেশি।

সবার একসঙ্গে বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়ায় টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী- কালীগঞ্জ সড়কের আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু ও আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলোতে যানজট দেখা দেয় মোনাজাতের পর।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বেলায়েত হোসেন জানান, সকালে প্রায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে তিনি ময়দানে এসেছিলেন মোনাজাতে অংশ নিতে। আবার হেঁটেই বাড়ি যাচ্ছেন। কষ্ট হলেও এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই তার।

রোববার ইজতেমা মাঠ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পেতে সমস‌্যার অভিযোগ কারেছেন অনেকে। অপারেটরগুলো নেটওয়ার্ক সুবিধা বাড়াতে আশপাশের এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নিলেও তাকে কাজ হয়নি খুব বেশি।

গত ১৩ জানুয়ারি ভোরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ওই পর্বে অংশ নেন ঢাকাসহ ১৭ জেলার মুসলমানরা।

চার দিন বিরতি দিয়ে ঢাকা ছাড়াও আরও ১৫ জেলার মুসলমানদের অংশগ্রহণে ২০ জানুয়ারি শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্যামে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের এই বার্ষিক সম্মিলন শেষ হল।

সূত্র : বিডিনিউজ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like