সেন্টমার্টিনে হুমায়ুন আহমদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্ত্রী শাওনের নতুন উদ্যোগ

S-Bilesh Pic- (1)আবদুল আজিজ, ২২ জানুয়ারি : কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদের স্মৃতি বিজড়িত কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে অবস্থিত ‘সমুদ্র বিলাস’কে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এই রিসোর্টকে ঘিরে হুমায়ুন আহমদের ভালবাসা, শ্রদ্ধা, পর্যটক, লাখো ভক্ত ও হাজারো স্মৃতির কথা বিবেচনায় নতুন করে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁর স্মৃতি শাওন। এমনটি জানিয়েছেন ওই রিসোর্টের ম্যানেজার মো: পাপন খাঁন।

তিনি বলেন, ‘সমুদ্র বিলাস নিয়ে ম্যাডামের (স্ত্রী শাওন) যথেষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে ম্যাডামের (স্ত্রী শাওন) নিজের টাকায় এই রিসোর্টের পাশে আরো ৩০ শতাংশ জমিও ক্রয় করেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৪৫লাখ টাকা। সেখানে নতুন করে আরো কটেজ নির্মাণ করা ব্যয় বহুল। সব মিলিয়ে এখানে লাভের কোন সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, প্রতি বছরই এই সমুদ্র বিলাসে ২/৩লক্ষ টাকা লোকসানে আছে। এরপরও হুমায়ুন আহমদের প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও তার হাজারো স্মৃতি ধরে রাখতে রক্ষাণাবেক্ষণ ও সুন্দর করে ধরে রাখার চেষ্টা করছে’।

S-Bilesh Pic- (2)তিনি আরো বলেন, ‘সমুদ্র বিলাসে যেখানে বসে উপন্যাস লিখতেন সেসব চেয়ার, টেবিল ও নানা আসবাবপত্র খুব যতœ সহকারে সংরক্ষণ করা হবে। পর্যটক ও ভক্তদের জন্য আরো বড় পরিসরে নতুন নতুন কটেজ নির্মাণ করা হবে। সব কিছু হচ্ছে স্ত্রী শাওনের (ম্যাডাম) ইচ্ছায়’।

মো: পাপন খাঁন আরো বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে বাড়ি করার পর হুমায়ুন আহমদ (হুমায়ুন স্যার) মাঝে মধ্যে সেন্টমার্টিনে এসে থাকতেন। সমুদ্র বিলাসে বসে উপন্যাস লিখতেন’। ‘তিনি সর্বশেষ এসেছিলেন, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর। সাথে স্ত্রী শাওন (ম্যাডাম), দুই সন্তান নিশাদ ও নিনিত এবং নাট্যপরিচালক মাসুদ রানাসহ আরো অনেকে। এটিই হুমায়ুন আহমদের (হুমায়ুন স্যার) শেষ আসা’।

১৯৮৮ সালে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে মাত্র ১৬ হাজার টাকায় ২২ শতক জমি কিনে নেয় দেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ। পরে ১৯৯৩ সালে সেখানে গড়ে তোলা হয় সমুদ্র বিলাস নামের একটি রিসোর্ট। এই রিসোর্টকে ঘিরেই পর্যটকরা সেন্টমার্টিনকে চিনতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পর্যটকদের সংখ্যা। কিন্তু, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদের মৃত্যুর পর এই রিসোর্টের হাল ধরেন তার স্ত্রী শাওন। এখন শাওনের তত্ত্বাবধানে সমুদ্র রিসোর্টের পুন: নির্মাণ কাজ চলছে। কারণ হুমায়ুন আহমদের হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই রিসোর্টকে ঘিরে। আর এসব স্মৃতিকে খোজে বেড়াই তাঁর অগনিত ভক্তরা। বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের আনা গোনা একটু কম থাকলেও এখন পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে এই রিসোর্টে। অন্তত এক রাতের জন্য হলেও থাকার জন্য ছুটে আসেন পর্যটকরা। কিন্তু, রুমের সংকুলান না হওয়ায় ফিরে যেতে হয় পর্যটকদের।

১৯৯৩ সালে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সেন্টমার্টিন নিয়ে ‘রূপালি দ্বীপ’ নামে একটি উপন্যাস লিখেন। পরবর্তীতে এই উপন্যাসের চলচ্চিত্র রূপ দেন ‘দারুচিনি দ্বীপ’ নামে। এসব উপন্যাস ও চলচ্চিত্র দারুণ প্রভাব ফেলে তরুণ সমাজের মাঝে। ক্রমেই সেন্টমার্টিনে উৎসুক তরুণদের ভিড় বাড়তে থাকে। ২০ বছর আগে এই দ্বীপে যেখানে মাত্র একটি খাবার হোটেল ছিল, তাও বছরের কিছু সময়ের জন্য, সেখানে এখন অন্তত অর্ধশত খাবার হোটেল রয়েছে। সেন্টমার্টিন অনেক আধুনিকতাও পেয়েছে। ২০ বছর আগে এই দ্বীপে হাতেগোনা কয়েকটি টিনের বাড়ি ছিল, তা এখন কয়েক শ’তে এসে ঠেকেছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে এই দ্বীপের বাসিন্দাদের দারিদ্রও দূরীভূত হয়েছে। এই কারণে হুমায়ুন আহমদের স্মৃতি বিজড়িত ‘সমুদ্র বিলাস’ একদিকে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে অন্যদিকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে বাড়ছে পর্যটকদের সংখ্যা। এমনটি ধারণা ‘সমুদ্র বিলাস’ দেখতে আসা অগনিত পর্যটকদের।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like