হঠাৎই শঙ্কার মেঘ

A13T3891ক্রীড়া ডেস্ক : মিচেল স্যান্টনারের গুলির বেগে নিখুঁত থ্রোতে রান আউট মেহেদী হাসান মিরাজ। মাঠের বড় পর্দায় যখন ভেসে উঠেছে তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত, মাঠের দুই আম্পায়ার তুলে নিলেন বেলসও। উৎকণ্ঠার মাঝেও বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে একটু স্বস্তি। দিনটা তো অন্তত শেষ হলো!

ব্যাটিংয়ের মধুচন্দ্রিমার পর বোলিংটায় ছিল যেন সংসারের কঠিন বাস্তবতা। তার পরও সেটি ছিল মানিয়ে নেওয়ার মতই। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া নাড়িয়ে দিল সুখী পরিবারকে। বিনা উইকেটে ৫০ থেকে ৬৬ রানে নেই ৩ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড বড় সহায়। চতুর্থ দিন শেষে ১২২ রানের লিড তবু খুব ভরসা দিতে পারছে না। এলোমেলো ঘর আবার গুছিয়ে শক্তভাবে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে।

সবকিছুর শুরু ইমরুল কায়েসের চোট থেকে। দেড়শ’ ওভার কিপিং করার পর দলের ব্যাটিং শুরু করতে নেমেছিলেন ইমরুল। খেলছিলেন দারুণ। দ্রুত রান নিতে গিয়ে ডাইভ দিয়ে চোট পেলেন বাঁ ঊরুতে। ওখানেই বেশ কিছুক্ষণ পড়ে থাকার পর যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে মাঠ ছাড়লেন স্ট্রেচারে করে। বাংলাদেশের ইনিংসেও যেন পড়ল কালো মেঘে ছায়া।

সামনে খেলার বল পেছনে গিয়ে লেট কাট করতে গিয়ে বোল্ড তামিম ইকবাল। লেগ স্টাম্পের শর্ট বলে বাজে শটে কটবিহাইন্ড মাহমুদউল্লাহ। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে রান আউট মিরাজ। প্রায় মরা ম্যাচে দারুণ প্রাণের সঞ্চার। দিনের খেলা শেষে নিউ জিল্যান্ড ওপেনার টম ল্যাথাম জানালেন, জয়ের হাতছানিতে রোমাঞ্চ কিউই ড্রেসিং রুমেও।

এমনিতে সোজা হিসাব বলছে, ভয়ের খুব বেশি কিছু থাকা উচিত নয়। চারজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান এখনও আছেন। একটি শতরানের জুটি হলেই ম্যাচ নিরাপদ। কিন্তু বাংলাদেশ দলের বাস্তবতা যে ভিন্ন!

মাউন্ট ভিক্টোরিয়ার কোল থেকে কিছু দুষ্টু মেঘ যেমন ঝলমলে রোদের মাঝেও আচমকা ভিজিয়ে দিয়ে যায় বেসিন রিজার্ভ, কিংবা কালো মেঘ ফুড়ে হঠাৎই দেখা যায় রোদের ঝিলিক, প্রকৃতির এমন রূপ বদলের চেয়েও দ্রুত বদলায় বাংলাদেশের ইনিংস। ধস এই ব্যাটিং লাইন আপের বড় শত্রু। যখন শুরু হয়, বন্যার প্রবল স্রোতের মত ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম। বাধ দেওয়ার উপায়ই যেন জানা নেই! চতুর্থ দিনের শেষে তাই প্রতিপক্ষ নয়, শঙ্কা নিজেদের নিয়েই। চ্যালেঞ্জ আতঙ্কের মানসিক বাধা জয় করার।

দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয় সংবাদ সম্মেলনে আসা তাসকিন আহমেদ জানালেন, ড্রেসিং রুমও বুঝতে পারছে, কাজটা হয়ে উঠেছে কঠিন। চ্যালেঞ্জ কখনও বের করে আনে সেরাটা, কখনও দেয় গুঁড়িয়ে। গত বছরের অসংখ্য ধসের স্মৃতি বলে, আরেকবার হতাশায় ডোবা কেবল সময়ের অপেক্ষা। আবার টাটকা অনুপ্রেরণা এই ম্যাচই। শত মানসিক বাধা আর বাস্তবতাতে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ধ্বংসস্তুপ থেকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল এই বাংলাদেশই।

অমানিশার মাঝেও আলোকবিন্দু একটু সুখবর। প্যাড-ট্যাড পায়ে প্রস্তুত ছিলেন মুশফিকুর রহিম, প্রয়োজনে চতুর্থ দিনেও ব্যাট করতেন। নতুন করে কিছু না হলে পঞ্চম দিনে তো করবেনই। ব্যাটিং কৌশলের চেয়ে বড় সমস্যা যখন মানসিকতায়, অধিনায়কের ফেরার খবর সেখানে তখন সঞ্জীবনী সুধা।

কে জানে, হয়ত ক্রিকেট বিধাতার চিত্রনাট্যই এমন। বাংলাদেশের অনেক পাওয়ার ম্যাচ আরও সমৃদ্ধ হবে এই রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তায়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫৯৫/৮ ইনিংস ঘোষণা

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৫৩৯

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৮.৩ ওভারে ৬৬/৩ (তামিম ২৫, ইমরুল আহত অবসর ২৪, মুমিনুল ১০, মাহমুদউল্লাহ ৫, মিরাজ ১; বোল্ট ০/২১, সাউদি ০/১২, স্যান্টনার ১/১৯, ওয়েগনার ১/১৪)

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like