‘সাগরে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও ফিশিং সেক্টরে সমস্যা নিরসনে সরকার বদ্ধ পরিকর’

boat-pic

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ০৯ জানুয়ারি: সাগরে জলদস্যুতা, লুটপাট, ঝাটকা ইলিশ নিধন, ফিশিং ভ্যাসেল কর্তৃক মৎস্য সম্পদ ধ্বংস, শ্রিম্প মাদার আহরণের নামে সহস্রাধিক প্রজাতির মাছ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবীতে এবং ফিশিং বোটের লাইসেন্স নিশ্চিতঃ করণের উপর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
৮ জানুয়ারি বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ মাঠে কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মঈন উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক এম আই গুলদার। মৎস্য পরিদর্শক জহিরুল হকের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন- কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- নৌ-বাণিজ্যিক দপ্তরের প্রকৌশলী বাহারুল ইসলাম ও বিএফডিসি অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা।
প্রধান অতিখি তার বক্তব্যে বলেন- সাগরে মৎস্য সেক্টরের নানাবিধ সমস্যাবলী নিরসনে সরকার বদ্ধ পরিকর। তিনি প্রত্যেকটি ফিশিং বোটের লাইসেন্স নিশ্চিতঃ করণের উপর জোর দেন।
প্রধান বক্তা তার বক্তব্যে বলেন- সাগরে জলদস্যুতা সুন্দরবন এলাকায় হ্রাস পেলেও বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ সামুদ্রিক এলাকা জুড়ে জলদস্যুতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন ১০/১৫টি বোটে জলদস্যুরা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বোটের আহরিত মাছ ও সর্বস্ব লুট করে বোটের মালিক ও মাঝি-মাল্লাদের অপূরণিয় ক্ষতি করে চলেছে। তিনি কতিপয় স্বার্থান্নেষী ব্যক্তি জালের ফাঁদ অতি ছোট করে ঝাটকা ইলিশ আহরণ পুর্বক বাজারজাত করে দেশের চরম সর্বনাশ ডেকে আনছে। তাদের বিরুদ্ধে তড়িৎ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান। এ ধরণের ছোট ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ করা না হলে সমিতির মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। মাঝি-মাল্লাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে সাগর নিরাপদ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানান।
সভায় বক্তারা ফিশিং ভ্যাসেল কর্তৃক নিরীহ ফিশিং বোটের উপর নির্যাতন ও জাল ছিনতাই, রাতের আধারে ফিশিং বোট ডুবিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সমাবেশে অবিলম্বে জেলেদের নিরাপত্তা বিধান করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের যাওয়ার হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে-এড. মনির উদ্দিন মনির, জানে আলম পুতু, বোট মালিক সমিতির পরিচালকদের মধ্যে মোঃ কাইয়ুম সওদাগর, অর্থ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, শফিউল আলম বাঁশি সওদাগর, ফজল করিম, ওসমান গণি টুলু প্রমুখ। সভায় ইতিপূর্বে এফবি রুমা নামের একটি ফিশিং বোট ১৬জন মাঝি-মাল্লাসহ ফিশিং ভ্যাসেল কর্তৃক তীব্র গতিতে ধাক্কা মেরে সাগরে ডুবিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ক্ষোভ, নিন্দায় প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবী জানানো হয়।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like