মহেশখালীর তিন বিদ্যালয় ভবন : নির্মাণকাজ শেষ হয়নি, পাঠদান চালু অনিশ্চিত

downloadপ্রথম আলোর সংবাদ : মহেশখালীর তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সর্বশেষ সময় ছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বর। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি। কার্যাদেশ অনুযায়ী দুটি ভবনের ২০১৪ সালের ডিসেম্বর ও একটির ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল।
বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে নতুন বিদ্যালয় চালু করার লক্ষ্যে নতুন ভবন তিনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন বছরের শুরুতেই এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু করার কথা ছিল। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম চালু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকার ২০১১ সালে সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে দেড় হাজার বিদ্যালয় চালু করার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে মহেশখালীতে পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুর জন্য নতুন করে ভবন নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। হোয়ানকের ডেইল্যাঘোনা, কুতুবজোমের ঘোনারপাড়া, বড় মহেশখালীর মাহারাপাড়া, গোরকঘাটার সিকদারপাড়া ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ নলবিলায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। একেকটি ভবনের নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কুতুবজোম ঘোনারপাড়া ও হোয়ানকের ডেইল্যাঘোনায় বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ ২০১৪ সালে শেষ হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয় দুটিতে শুরু হয় পাঠদান। বাকি তিনটি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। বড় মহেশখালীর মাহারাপাড়া ও গোরকঘাটার সিকদারপাড়ার বিদ্যালয় ভবনের কার্যাদেশের মেয়াদ দুই ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ নলবিলারটির এক বছর বাড়ানো হয়।
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সিকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণকাজ শেষ। কিন্তু শৌচাগার নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন বুঝিয়ে দিতে পারেনি। আর দক্ষিণ নলবিলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একতলা ভবনে ছাদ ঢালাই দেওয়া হলেও দেয়াল, মেঝে ও শৌচাগারের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সিকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ফরিদুল আলম বলেন, জায়গা নিয়ে জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। এখন শৌচাগার ছাড়া বাকি ভবনের কাজ শেষ হয়েছে।
তাই শৌচাগারের নির্মাণকাজ শেষ করে বিদ্যালয় চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
দক্ষিণ নলবিলার বিদ্যালয়ের ঠিকাদার আবদুল লতিফ বলেন, অর্থের অভাবে নির্মাণকাজ থেমে ছিল।
এদিকে বড় মহেশখালী মাহারাপাড়া আমিনা মওদুত বিদ্যালয় ভবনের কাজ শেষ হলেও ত্রুটি থাকায় উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় ভবনটি ঠিকাদারের কাছ থেকে বুঝে নেয়নি। কাজের ঠিকাদার আবুল কাশেম বলেন, ত্রুটিপূর্ণ কাজের জন্য চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। ওই সব ত্রুটি সারানোর কাজ শেষ পর্যায়ে, ১৫ দিনের মধ্যে ভবন বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী খাইরুল আলম বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ওই তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারদের অবহেলার কারণে ভবনের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে তিন বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় চলতি বছরের শুরুতে তিন বিদ্যালয়ের পাঠদানের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like