নগ্ন দেবতায় ফেসবুকের আপত্তি

facebook20170105164021প্রযুক্তি ডেস্ক : সাগর দেবতা নেপচুনের বিখ্যাত একটি ভাস্কর্য, যেটি প্রায় ৫০০ বছর ধরে ইতালিতে অবস্থিত, বিখ্যাত এই ভাস্কর্যের ছবিটি ফেসবুক মুছে দিয়েছে নগ্নতার অভিযোগে।

মূর্তির ছবিটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সোশ্যাল সাইটের জন্য খুবই যৌনতাপূর্ণ বলে গণ্য করার এ ঘটনায় পরবর্তীতে অবশ্য ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

বিজনেস ইনসাইডারের খবরে বলা হয়েছে, ইতালির বেলোগোনা শহরের প্রতীক ষোড়শ শতাব্দীর এই মূতিটি স্থানীয় লেখক এলিসা বারবারি তার ‘স্টোরিজ, কিউরিসিটিজ অ্যান্ড ভিউস অব বোলোগোনা’ নামক ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের সাইটের নীতিমালা ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলে দেবতা নেপচুনের ৩.২ মিটার উচুঁ বোঞ্জ মূতির্টির ছবি মুছে দেয়।

তারা মিসেস বারবারিকে জানায়, ‘ছবিটি স্পষ্টভাবে একটি সেক্সুয়াল কনটেন্ট, যা মাত্রাতিরিক্তভাবে শরীর প্রদর্শন করছে বা শরীরের অংশ প্রয়োজনের তুলনায় ঘনীভূত করছে।’

ফেসবুকের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বারবারি বলেন, ‘আমি আমার পেজের প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলাম কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে ছবিটি অত্যাধিক যৌনতাপূর্ণ মনে হয়েছে। সত্যি কি তাই, নেপচুন? এটা ফেসবুকের পাগলামো!’

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৫০ সালে একবার স্কুল শিক্ষার্থীদের গ্রাজুয়েশন পালনের সময় নেপচুনকে ঢাকা হয়েছিল। হয়তো ফেসবুক চাচ্ছে মূর্তিটিকে আবারও পোশাকে ঢাকতে।’

এরপর তিনি তার ফেসবুকে বড় অক্ষরে একটি পোস্টে লিখেন, ‘নেপচুনকে হ্যাঁ বলো। এমন সেন্সরশিপকে না বলো।’

বিখ্যাত বিষয়কে নগ্নতার নীতিমালায় এনে মুছে ফেলে ফেসবুকের ভুল সেন্সরশিপের সর্বশেষ উদাহারণ আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ নেপচুনের ছবিটি।

এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের বিখ্যাত ভাস্কর্য ‘দ্য লিটল মারমেইড’ এর ছবিটির বিরুদ্ধে নগ্নতার অভিযোগ তুলেছিল ফেসবুক। ডেনমার্কের সংসদ সদস্য মেসিডিয়াস তার ক্যামেরায় তোলা ‘দ্য লিটন মারমেইড’ মূর্তির একটি ছবি তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ফেসবুকের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, ছবির অনেকাংশে মহিলা উন্মুক্ত থাকায় এবং তা প্রচ্ছন্নভাবে যৌনতাকে ইঙ্গিত করায় ছবিটি পোস্ট করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় বিতর্ক শুরু হওয়ায় অবশেষে ফেসবুক নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে ছবিটি পোস্ট করার অনুমতি দেয়।

এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঐতিহাসিক ‘নাপাম গার্ল’ ছবি মুছে দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল ফেসবুক। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার ওই ঐতিহাসিক ছবিটি পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী, কিন্তু ছবিটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মুছে দেয় তাতে নগ্ন মেয়ে শিশু প্রদর্শিত হওয়ায়। নরওয়ের প্রভাবশালী পত্রিকা আফটেনপোস্টেন তাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিল ছবিটি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী আর্না সোলবার্গও তার ফেসবুকে প্রোফাইলে ঐতিহাসিক ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। ঐতিহাসিক ছবিকে নগ্নতার নীতিমালায় ফেলায় সমালোচনার চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত ছবিটি পুর্ণবহাল করে ফেসবুক।

আর এবার নগ্নতার অভিযোগে নেপচুনের ছবি মুছে ফেলায়ও ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, এই সেন্সরশিপ একটি ভুল ছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের দল প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ বিজ্ঞাপনী ছবি নিয়ে কাজ করে, আর মাঝেমধ্যে ভুলে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে। এই ছবি আমাদের বিজ্ঞাপন নীতিমালা লঙ্ঘন করে না। আমরা এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।’

-রাইজিংবিডি

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like