সোনাইছড়িতে অভিযানের নামে পুলিশের তান্ডব!

pic-01নিজস্ব প্রতিবেদক, ২১ ডিসেম্বর : উখিয়ার সোনাইছড়িতে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে বিনা কারণে অভিযানের নামে তান্ডব চালিয়েছে পুলিশ। এসময় নগদ টাকাসহ প্রায় ১০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সাদা পোষাকে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য সহ একদল দুর্বৃত্ত কোন অনুমতি ছাড়াই ঘরে ঢুকে তল্লাশীর নামে লুটপাট চালায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের ইসলাম মিয়ার পুত্র ও সৌদি প্রবাসি মন্জুর আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সৌদি প্রবাসি মন্জুর আলম অভিযোগ করে জানান, একটি পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তার আপন ভাই শীর্ষ মানবপাচারকারি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী শামশুল আলম সোহাগের নেতৃত্বে জাফর আলম ও আবু তাহের সহ একদল সন্ত্রাসী ভাগিনা সাগর আলী, ইউছুপ আলী ও বোন শবে মেরাজকে ব্যাপক মারধর করে। এঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা মন্জুর আলমকেও ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আরিফকে মানবপাচার ও ইয়াবার কালো টাকায় ম্যানেজ করে দফায় দফায় মন্জুর আলমের ঘরে তল্লাশী করায়। এসময় পুলিশের এসআই আরিফের নেতৃত্বে সাদা পোষাকে হাতকড়া ও রিভলবারের ভয় দেখিয়ে নগদ ৬লাখ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণ, ২টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। তল্লাশীর সময় আলমিরা ও শো-কেস ভাংচুর করে এবং সংরক্ষিত কাপড় ও অন্যান্য মুল্যবান আসবাবপত্র তছনছ করে চলে যায়। এসময় পুলিশের সাথে জেলার শীর্ষ মানবপাচারকারি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী শামশুল আলম সোহাগ উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন মন্জুর আলম।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরিফ মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, বিষয়টি তিনি খোজ নিয়ে দেখবেন।

উল্লেখ্য, স্থানীয় ইসলাম মিয়ার ছেলে শামশুল আলম সোহাগ গত ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রেজুখালের মোহনা দিয়ে সাগরপথে মানবপাচার করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। তার বিরুদ্ধে উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও চট্টগ্রামের কর্নফুলী থানায় এক ডজন মামলা রয়েছে। মানবপাচার আইনে এসব মামলায় তিনি জামিনে থাকলেও আদালতে মামলা গুলো চলমান রয়েছে। সম্প্রতি ইয়াবা চালান নিয়ে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় ২হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক হন তিনি। ইয়াবার মামলায় চট্টগ্রাম থেকে কারামুক্ত হওয়ার পর আবারও শুরু করে ইয়াবা ব্যবসা। ইয়াবার এসব কালো টাকার জোরেই পুলিশের এসআই আরিফকে ম্যানেজ করে বাড়িতে তল্লাশী চালায় এবং লুটে নেয় নগদ ৬লাখ টাকা সহ প্রায় ১০লাখ টাকা এবং নষ্ট করা হয় বাড়িতে সংরক্ষিত মুল্যবান সরাঞ্জামাদি। এঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে শীর্ষ মানবপাচারকারি শামশুল আলকে গ্রেপ্তার ও এসআই আরিফের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য কক্সবাজার পুলিশ সুপার সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like