সালিশে অপমানে তরুণীর আত্মহত্যা, চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

_92922581_gettyimages-461726062

প্রতীকী ছবি

শনিবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে কলারোয়া থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ।

রোববার আদালতে হাজির করা হলে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. মহিবুল্যাহ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মনিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার ইসমাইল হোসেন ও স্থানীয় যুবক জয়দেব কুমার দাস।

সোনাবাড়িয়া গ্রামের আফরোজা খাতুন  (১৭) নামে ওই তরুণী শুক্রবার রাতে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেন।

এদিকে মামলাটি জোরপূর্বক করানো হয়েছে বলে দাবি করছেন বাদী।

ওসি এমদাদুল সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার দুই তরুণ-তরুণীকে আটক করে এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করে। পরে চেয়ারম্যান মনিরুল বিচারের নামে গ্রাম পুলিশ দিয়ে ওই তরুণ-তরুণীকে বেঁধে সোনাবাড়িয়া বাজারে ঘোরায়।

“এই অপমানে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। পরে এ ঘটনায় শনিবার মেয়েটির ভাই ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে চেয়ারম্যানকে আসামিকে করে মামলা করলে রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

তবে কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুক্রবার স্থানীয় ওই তরুণ-তরুণীকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গেলে চেয়ারম্যান মনিরুল তাদের জনরোষ থেকে উদ্ধার করে এবং মুক্ত করে দিতে বলেন।”

তবে ওই সময় আটক হওয়া তরুণীর ছবি তোলে স্থানীয় জয়দেব নামের এক যুবক। ছবিটি দেখার পরে ওই তরুণী আত্মহত্যা করে বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের এ সভাপতি পাল্টা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি উপজেলাব্যাপী পুলিশের লাগামহীন গ্রেপ্তার বাণিজ্যের প্রতিবাদে একটি জনসভা করে চেয়ারম্যান মনিরুল। সেখানে উপজেলার অন্য ১২ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও বক্তব্য দেন।

“এরপর থেকে কলারোয়া থানার ওসি চেয়ারম্যানদের ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকি দিতে থাকেন। এ আটক ওই ওসির আক্রোশ ছাড়া কিছু না।”

ওসির প্ররোচনায় মামলায় চেয়ারম্যান মনিরুলের নাম জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি এমদাদুল।

তরুণীর ভগ্নিপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার তার শ্যালিকা বাজারে মোবাইলে টাকা লোড করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তার সঙ্গে থাকা তরুণসহ আটক করে।

“পরে চৌকিদারদের সঙ্গে নিয়ে চেয়ারম্যান মনিরুলে সামনে নিয়ে গেলে তিনি সব শুনে বকাঝকা ও মারধর করে ছেড়ে দেন।”

পরে তার শ্যালিকা আত্মহত্যা করেন বলে জানান তিনি।

চেয়ারম্যান মনিরুল দাবি করেন, এক যুবকের গোপনে তোলা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।

মেয়েটিকে বছর খানেক আগে কুষ্টিয়াতে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু উভয় পক্ষে বনিবনা না হওয়ার কারণে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

সাতক্ষীরা জজ আদালতের এপিপি তামিম আহমেদ সোহাগ বলেন, মামলাটি জোরপূর্বক তাকে দিয়ে করানো হয়েছে দাবি করে রোববার দুপুরে মেয়েটির ভাই ইব্রাহিম অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. মহিবুল্যাহর কাছে এফিডেভিট জমা দিয়েছেন।

আদালত আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like