কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মানবপাচার বিরোধী রোডমার্চ ২৬ নভেম্বর

avivasan-pic

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ২১ নভেম্বর: মানবপাচার প্রতিরোধে জনসচেতনা বৃদ্ধি ও সরকারী কার্যকর পদক্ষেপের লক্ষ্যে কক্সবাজার থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ নভেম্বর।
“নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত কর, মানবপাচার প্রতিরোধ কর” এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে মানবাধিকার ভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস্ ডিফেন্ডারস্ ফোরাম (এইচআরডিএফ) কক্সবাজার এর উদ্যোগে রোডমার্চ সহযোগীতায় রয়েছে আইন ও শালিস কেন্দ্র ঢাকা।
রোডমার্চ সফল করার লক্ষে এক মতবিনিময় সভা ২০ নভেম্বর বিকাল ৪টায় কক্সবাজার বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ষ্টেডিয়ামের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
রোডমার্চের উদ্ভোধনী সমাবেশ কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে গণসংগীতের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে কোটবাজার, উখিয়া, খারাংখালীতে পথসভা এবং টেকনাফ ষ্টেশন চত্বরে সমাপনী সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। পাশাপাশি মানবপাচারে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
হিউম্যান রাইটস্ ডিফেন্ডারস্ ফোরাম কক্সবাজার এর আহবায়ক এডভোকেট অরুপ বড়–য়া তপুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মানবাধিকার সংগঠন, সংবাদকর্মী, জনপ্রতিনিধি, নারী নেতৃবৃন্দ, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
হিউম্যান রাইটস্ ডিফেন্ডারস্ ফোরাম কক্সবাজার এর সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বাহাদুরের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভা বক্তব্য রাখেন- সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল, এইচআরডিএফ কক্সবাজার এর যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আবদুল শুক্কুর, নোঙ্গর পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ, মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রেজাউর রহমান, কর্মজীবী নারীর সভাপতি রিজিয়া বেগম, খেলাঘর এর সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, আদিবাসী ফোরাম প্রতিনিধি ক্যজ অং, মোঃ শামসুল আলম, মহিলা আইনজীবী সমিতি প্রকল্প কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার, প্রদীপ দাশ, এইচআরডিএফ সদস্য আবদুর রশিদ।
সভায় বক্তারা বলেন- বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত কোটি কোটি টাকা দেশে আসছে। যা বাংলাদেশে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ। অথচ এই অভিবাসী শ্রমিকরা নানাভাবে অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। দেশ থেকে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে শুরু হয় পদে পদে অভিবাসী শ্রমিকদের ভোগান্তি, বঞ্চনা। তারে উপর নির্যাতনের কাহিনী। কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সী ও তাদের দালালদের খপ্পরে পড়ে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে ৪/৫ গুন বা তারও বেশী খরচের টাকা যোগাতে অভিবাসন প্রত্যাশীরা জমা সহায়সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষা সহ অন্যান্য কারিগরী প্রশিক্ষণ না দিয়ে বিদেশে পাঠানোর কারণে তারা বিদেশে গিয়ে পড়েন চরম বিপদে। বিদেশের কর্মক্ষেত্রেও শুরু হয় নানা হয়রানী, নির্যাতন, বেতন না পাওয়া সহ নানা বঞ্চনা। অনেক সময় বিদেশে কর্মরত অবস্থায় নানা দূর্ঘটনায় পড়ে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়েও শ্রমিক মৃত্যুর মতো ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে বৈধপথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগের অভাবে এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে একশ্রেণীর দালাল ও প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীরা সমুদ্রপথে বা অন্যান্যভাবে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে মানবপাচারের শিকার হন।
বক্তারা আরও বলেন- গত বছর আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, ঝুঁকিপূর্ণ সাগর পথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী শ্রমিক বিভিন্ন দেশের সীমান্তবর্তী জঙ্গল ক্যাম্পে, কারাগারে বা বন্দি শিবিরে আকট অবস্থায় নির্যাতিত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং এখনও নিখোঁজ রযেছেন অনেক শ্রমিক। বিশেষ করে থাইল্যান্ড-মালেশিয়ার সীমান্তবর্তী জঙ্গলে বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের গণকবর আবিস্কৃত হওয়ার খবর বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছে। তাই আমরা মনে করি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য মানবপাচার প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরী।
বক্তরা বলেন- আমরা জানি আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রক্রিয়া কোন একক রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ, বেসরকারী উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসীদের ভূমিকা জরুরী।
এ লক্ষ্যেই ২০০৬ সালে গঠিত হয় ‘গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেসন এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ যাকে সংক্ষেপে জিএফএমডি বলা হয়। জিএফএমডি হচ্ছে অভিবাসন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত ইন্টারন্যাশনাল (বৈশ্বিক) একটি ফোরাম। যার মূল উদ্দেশ্য অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার রক্ষাসহ অভিবাসন ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিবাসী শ্রমিক প্রেরণকারী ও গ্রহনকারী দেশ সমূহের সরকার গুলোর মধ্যে আলোচনা, কর্মকৌশল নির্ধারণ ও সুপারিশমালা গ্রহণ। ২০০৬ সালে জিএফএমডি গঠিত হওয়ার পর বেলজিয়াম, ফিলিপাইনস্, গ্রীক, মেক্সিকো, সুইডেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জিএফএমডির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর ১০-১২ ডিসেম্বর জিএফএমডি’র নবম সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের অভিবাসী, ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। পিজিএ-তে বিভিন্ন দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিবাসী শ্রমিকদের নানা সমস্যা তুলে ধরে সেগুলো নিরসনের লক্ষ্যে সুপারিশমালা প্রনয়নসহ তাদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করা হবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like