দাতব‌্য ট্রাস্টে দুর্নীতি: খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন ২৪ নভেম্বর

khaleda-zia-4

রাজনীতি ডেস্ক: বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা জিয়া দাতব‌্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন‌্য ২৪ নভেম্বর দিন রেখেছে আদালত। এছাড়া জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরার জন‌্য ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তার সময়ের আবেদনে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার এই তারিখ নির্ধারণ করে দেন। বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ দুই মামলার বিচার চলছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির এ দুই মামলায় হাজিরা দিতে ১০ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে আদালতে আসেন।

প্রথমে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে তিন বিষয়ে নতুন করে জেরা করেন খালেদার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান।

হারুন অর রশিদ বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ার পর আগেও একবার তাকে জেরা করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের অনুমতি নিয়ে তিনটি প্রশ্নে এবার তাকে নতুন করে জেরা করলেন তারা।

এ মামলার ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হওয়ার পর প্রধান আসামি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন‌্য ২৪ নভেম্বর দিন ঠিক করে দেন বিচারক। আর আসামিপক্ষের আবেদনে এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের জেরা পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর তারিখ রাখা হয়।

দাতব‌্য ট্রাস্ট মামলা

জিয়া দাতব‌্য ট্রাস্টের নামে আসা অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছরের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি এ মামলায় সাক্ষ‌্য দেন। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শুরু করেন। খালেদা জিয়া বার বার সময় নিয়েও হাজির না হওয়ায় আদালতের আদেশে তার অনুপস্থিতিতেই তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা।

এরপর ৯ মার্চ খালেদার আইনজীবীরা হারুনুর রশিদকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের গেজেট প্রকাশ না করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের জন‌্য হাই কোর্টে আরজি জানান।

ওই আবেদনের কথা জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জজ আদালতে সময় চাইলে ৭ এপ্রিল তা নাকচ করে খালেদাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৭ এপ্রিল হাজির হতে নির্দেশ দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার।

এরপর ১৭ এপ্রিল আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নিয়ে আপত্তি তুলে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার আবেদন করেন, যা বিচারক নাকচ করে দেন। ওই আদেশ বাতিল চেয়ে পরদিন হাই কোর্টে দুটি আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন, যা ১৯ এপ্রিল আদালতে ওঠে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সেদিন জানান, তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা এবং তদন্ত নথি (কেস ডকেট) দেখানোর জন্য বিচারিক আদালতে আবেদন করা হলে ১৭ এপ্রিল তা খারিজ হয়। ওই আদেশ বাতিল ও মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়েই তারা দুটি আবেদন করেছেন।

দুই আবেদন শুনে হাই কোর্ট ১৫ মে তা খারিজ করে আদেশ দেয়। এরপর আপিলের আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার নিষ্পত্তি করে সর্বেোচ্চ আদালত জানায়, তিন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তাকে নতুন করে জেরা করা যাবে।

তিন প্রশ্ন

# ট্রাস্ট অ্যাক্টের ২৩ ধারা অনুসারে ট্রাস্ট বোর্ডের কোনো সম্পত্তির অপব্যবহার হলে বোর্ড অব ট্রাস্টি দায়ী কি-না।

# হলফকারী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা হলফ করে কী বলেছেন।

# এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদকে ২০০৫ সালে দুদক থেকে প্রত্যাহার করা হয়, তারপরও কীভাবে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন?

এতিমখানা দুর্নীতি মামলা

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় দায়ের মামলায় ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।

তারেক রহমান ২০০৮ সালে আদালতের মাধ্যমে জামিন নিয়ে দেশ ছাড়ার পর আর ফেরেননি। তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ আরও কয়েক ডজন মামলা রয়েছে।

মামলায় মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর তার জেরার জন‌্য দিন রাখে আদালত। মামলার অভিযোগপত্রের ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like