বিদ্যুৎ ব্যবহারে ‘হিসেবি হবেন’ আরও ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহক

electricity-in-bangladesh

চট্টগ্রাম ডেস্ক:  বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল বলে পরিচিত পিডিবি চট্টগ্রামে প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রকল্পের আওতায় আসছে আরও ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহক। পিডিবির আওতাধীন নগরীর চারটি বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে আধুনিক এ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতেও এটি চালু করার চিন্তা আছে পিডিবির।

প্রাথমিকভাবে স্টেডিয়াম, আগ্রাবাদ, খুলশী ও পাহাড়তলী কেন্দ্রে এ প্রকল্প চালু হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সব মিটারও দেবে পিডিবি।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পিডিবি যেমন সুফল পাবে, তেমনি সুফল পাবেন গ্রাহকরা। এর ফলে পিডিবির অকারিগরি ক্ষতি ক্ষমানো ও অগ্রিম শতাংশ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। অন্যদিকে গ্রাহক মুক্তি পাবেন ভুতুড়ে বিলের অত্যাচার আর বিল জমা দেওয়ার ভোগান্তি থেকে।

শুধু এটা নয়, আগে গ্রাহকরা বুঝতে পারতেন না মাস শেষে কি পরিমাণ বিল আসছে, কিন্তু প্রি-পেমেন্ট মিটারে কারণে গ্রাহকরা যখন ইচ্ছে তখন জানতে পারবেন কত বিদ্যুৎ খরচ করেছেন কিংবা কতটাকা কাটা গেছে। এর ফলে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহারে হিসেবি হবেন এমনই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

আগে গ্রাহকরা বুঝতে পারতেন না তাদের কি পরিমাণ বিল আসছে। কিন্তু প্রি-পেমেন্ট মিটারের ফলে প্রতিদিন কি পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে আর কি পরিমাণ টাকা বাকি আছে তা জানতে পারবেন। ফলে হিসেব করেই তারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মানুষ সচেতন হবে অপরদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও হবে।

চীনের মেসার্স হেক্সিং ইলেকট্রিক কোম্পানি লিমিটেড এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চীনে তৈরি ১ লাখ ৩৫ হাজার সিঙ্গেল ফেইজ ও ৪ হাজার থ্রি ফেইজ মিটার গ্রাহকদের দেওয়া হবে।  ইতিমধ্যে ৫ হাজার মিটার চলে এসেছে।  গত ২৭ অক্টোবর থেকে তা মাঠ পর্যায়ে স্থাপন করাও শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘২০০৯ সালে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু মাঝখানে চার বছর এটা কীভাবে হবে তা নিয়ে কাজ করা হয়। পরে ২০১৫ এর ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।  এরপর চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এটির কাজ শুরু হয়।’

তিনি বলেন, কার্ড রিচার্জের মাধ্যমে গ্রাহকরা চাহিদামতো বিদ্যুৎ কিনতে পারবেন।  আগ্রাবাদ কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় এ উপলক্ষে বিদ্যুৎ বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।  সেখানে গিয়ে গ্রাহক কার্ড কিনতে পারবেন। পরবর্তীতে কার্ডে থাকা ২০ ডিজিটের সংখ্যাটি মিটারে রিচার্জ করে নিলেই মিটারের অ্যাকাউন্টে টাকা যুক্ত হয়ে যাবে। এরপর বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে টাকার পরিমাণও কমতে থাকবে। পরবর্তীতে টাকা শেষ হয়ে গেলে গ্রাহককে কিছু টাকা অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হবে। পরবর্তী দিন সেই টাকা পরিশোধ করে নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন গ্রাহক।’

কামাল উদ্দিন মনে করেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একদিকে ১০০ ভাগ রাজস্ব যেমন আদায় হবে তেমনি গ্রাহকরাও বিদ্যুৎ খরচে হিসেবি হবেন, যার ফলে বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে।

পিডিবি সূত্র জানায়, এর আগে পিডিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২০০৭ সালে নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা ও খুলশী আবাসিক এলাকায় প্রি-পেমেন্ট মিটারিংয়ের পাইলট প্রকল্প করে।  এর আওতায় ২৫ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় আনা হয়। প্রকল্পে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও সাশ্রয়ে সাফল্য পাচ্ছে পিডিবি। গড় হিসেবে সেই প্রকল্প এলাকায় আগের চাহিদার তুলনায় ১০ শতাংশ মতো বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like