মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে ভাঙনের কবলে বসতি

chakaria-salo-masin

মাতামুহুরী নদীর সাহারবিল এলাকায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন।

এম মনছুর আলম, চকরিয়া, ৩০ অক্টোবর: কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর অন্তত ২০ পয়েন্ট থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে তীরের বসতিরা। এমনকি বালি উত্তোলনের কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ।

অভিযোগ উঠেছে, মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। নদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধে সরকারি নীতিমালা থাকলেও জড়িত প্রভাবশালীরা তা অমান্য করে বহাল তবিয়তে তাদের কর্মকা- চালাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া অংশের অন্তত ২০টি পয়েন্ট থেকে বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। একইভাবে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নদী থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।

সাহারবিল এলাকার স্থানিয়রা জানান, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য সাকের উল্লাহ’র নেতৃত্বে প্রভাবশালী চক্র কয়েকটি শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করছে। দ্বীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালি উত্তোলনের কারণে বর্তমানে ওই এলাকার দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। বালি উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দেড় কোটি টাকার প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজও বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান কনস্ট্রাকশন এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও অদ্যাবদি কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মাতামুহুরী নদীর সাহারবিল পয়েন্টে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাকের উল্লাহ বলেন, ‘মাতামুহুরী নদী থেকে বালি উত্তোলনে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে কেন? তাছাড়া সরকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য এই বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরে বালি বিক্রি করছি না।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে গেল বর্ষা মৌসুমে প্রতিরক্ষা উন্নয়ন কাজের প্রকল্প এলাকায় নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এ অবস্থায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গেল জুনমাসে কাজটি সমাপ্ত করতে পারেনি। বালি উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে চলতি বছরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিরক্ষার এ কাজ সম্পন্ন করতে পারবে কিনা সন্দিহান। এতে এলাকার অসংখ্য বসতি নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়ার আশংকা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পওর বিভাগ) চকরিয়ার চিরিঙ্গা শাখা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সাহারবিল এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে এটা ঠিক। তবে বালি উত্তোলনের কারণে বন্ধ রয়েছে কী-না তা আমি বলতে পারব না। আমি যতটুকু জানি, ওই স্থানে কয়েক হাজার বালুর বস্তা ফেলতে হবে। ইতিমধ্যে বালুভর্তি করে এসব বস্তাও প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে টাষ্কফোর্সের টিম এসে বস্তাভর্তি করা বালু এফ.এম পয়েন্ট নাইন পর্যন্ত রয়েছে কী-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হলেই এরপর পুরোপুরি এই কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের খবর পেয়ে ইতিপুর্বে লোক পাঠিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া নদীর যেসব পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like