কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

japa-coxs-pic

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ১৬ অক্টোবর: কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির নব-নির্বাচিত জেলা কমিটির প্রথম সাধারণ সভা/পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টা হতে বেলা ৩ ঘটিকা পর্যন্ত হোটেল কল্লোল সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সকল নেতাকর্মীরা কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করতে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী মোঃ ইলিয়াছ এমপি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় নেত্রী খোরশেদ আরা হক এমপি, জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহ-সভাপতি এডঃ আহমেদ কবির, সাবেক সভাপতি বর্তমান সহ-সভাপতি এ.এইচ.এম আবছার, কেন্দ্রীয় নেতা সহ-সভাপতি নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো, সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন দুলাল, সহ-সভাপতি শফিক আহমদ বি.কম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসমাউল হুসনা, সহ সাধারণ সম্পাদক এস.এম মাহবুবুল করিম ছিদ্দিকী, সহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সী, সহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনাফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সাংগঠনিক মফিদুল আলম, যুগ্ম সাংগঠনিক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক সরওয়ার আলম। উপস্থিত ছিলেন- জেলা কমিটির ১০১ জন নেতৃবৃন্দ।
উক্ত পরিচিতি সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যের শুরুতে হাজী মোঃ ইলিয়াছ এমপি সবাইকে সাদুবাদ জানিয়ে দীর্ঘদিন পরে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জেলা জাতীয় পার্টির উপযুক্ত কমিটি উপহার দেওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং পল্লীবন্ধু হুসেই মুহাম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন- দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করার জন্য প্রত্যেকের সহযোগিতা নিয়ে আগামীতে জেলা জাতীয় পার্টির অগ্রযাত্রা শুরু হবে। প্রত্যেক উপজেলার নেতৃবৃন্দের উপজেলা ভিত্তিক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি এমপি খোরশেদ আরা হক বলেন- জেলা জাতীয় পার্টির নব-গঠিত কমিটি অতীতের সকল কমিটির চাইতে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদাশীল এবং প্রতিভাবান নেতৃত্ব দিয়ে গঠিত হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে সাদুবাদ জানান। জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশ্যে বলেন- দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করার জন্য যে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছপা হবেন না, আমরা আপনাদের রয়েছি। জেলা জাতীয় পার্টির এই বারের কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা সদস্য অর্ন্তভূক্ত করায় জেলা মহিলা জাতীয় পার্টির সভানেত্রী হিসেবে খোরশেদ আরা হক নির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথি আহমদ কবির বলেন- কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির আওতাধীন ৮টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা এবং ১টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে, ঐ সকল উপজেলা, পৌরসভা কমিটিকে পুনঃ বিন্যাসের দাবী জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহ-সভাপতি এইচ.এম আবছার বলেন- এই ধরণের পরিচিতি সভা জাতীয় পার্টির বয়সে খোঁজে পাওয়া মুশকিল, আমি এই সভাকে ৩ ভাগে বিভক্ত চাই- একটি অভিষেক, আর একটি সাধারণ সভা এবং অন্যটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সভা। গুটিকয়েক ঠকবাজ নেতাদের কারণে আমরা রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়েছিলাম। চিহ্নিত গুটিকয়েকজন পদভ্রষ্ট নেতাদের বাদ দিয়ে এই কমিটি করায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ধন্যবাদ জানান।
জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান তার বক্তব্যে সকল নেতাকর্মীকে ধৈর্য্য ধারণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন- দীর্ঘকাল বিরোধী রাজনীতি করতে করতে আজ আমরা প্রায় নিঃস্ব। উপজেলার অনেক নেতা আজকে নিঘৃহত ও উপেক্ষিত। আমরা উপজেলা পর্যায়ে স্ব স্ব প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে বিরোধী দলের অধিকার আদায়ের প্রাণপন চেষ্টা করব। উপজেলার নেতাদের সাধারণত বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা হতে হয়। একজন বিরোধী দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতঃ উপজেলা নেতৃবৃন্দ, অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করব। দল থাকলে, পদবী থাকবে আর পদবী থাকলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। জেলা জাতীয় পার্টির বিরোধীতা করতে গিয়ে কিছু অজ্ঞ, অনভিজ্ঞ নেতা দলকে হ জ ব র ল করার চেষ্টা করছেন। তারা নিজেই জানেন না, তাদের সামাজিক অবস্থাতে, রাজনীতি অবস্থাতে মূল দলকে নিয়ন্ত্রিত করার ক্ষমতা শুধুমাত্র পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব রাখেন। কোন সহযোগী সংগঠন দিয়ে ওসখানী মূলক আচরণ করে নেতৃত্ব ফিরে পাওয়া যায় না। নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য প্রতিভাবান নেতৃত্বের দরকার, যোগ্য নেতৃত্বের দরকার, সঠিক পথ অবলম্বন করা দরকার, তিনি ঐ সকল নেতাদের ভুলপথ পরিহার করে, সঠিক পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। তিনি অনতি বিলম্বে সাংসদদের সমন্বয়ে কক্সবাজার জেলা কার্যালয় বহুতল ভবন নির্মাণের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে সারা বাংলাদেশের প্রয়াত নেতাকর্মীদের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন- ওলামা পার্টির সভাপতি মৌলভী শফিউল্লাহ জিহাদী। আলোচনা সভা শেষে এক মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like