লাইফ সাপোর্ট ছাড়াই সাড়া দিচ্ছেন খাদিজা

health-minister-pic

চিকিৎসাধীন খাদিজার খোঁজ-খবর নিতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম

নিউজ ডেস্ক: সিলেটে এক ছাত্রলীগ নেতার হামলায় আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার ১০ দিন পর কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস লাইফ সাপোর্ট ছাড়াই সাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

অবস্থার উন্নতি হওয়ায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল চিকিৎসাধীন থাকা নার্গিসের লাইফ সাপোর্ট বৃহস্পতিবার খুলে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খাদিজার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতে সন্ধ্যায় হাসপাতালে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “তার শরীরের ডান পাশ নড়াচড়া করছে; তার বাম পাশ এখনও অবশ হয়ে রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার, সবই করা হচ্ছে।

“তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, লাইফ সাপোর্ট আর প্রয়োজন হবে না।”

নার্গিসের চিকিৎসার সব ব্যয় সরকার বহন করবে বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতা নাসিম।

গত ৩ অক্টোবর সিলেটে হামলার শিকার হওয়ার পর ঢাকায় এনে স্কয়ার হাসপাতালে ৪ অক্টোবর বিকালে খাদিজার অস্ত্রোপচার হয়। এরপর ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করে শনিবার তার শারীরিক অবস্থা সাংবাদিকদের জানান চিকিৎসকরা।

লাইফ সাপোর্টে সম্পূর্ণ ‘কনশাস’ না হলেও ব্যথা পেলে খাদিজা সাড়া দিচ্ছিলেন বললেও এই কলেজছাত্রী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারবেন কি না- তা জানতে আরও দুই-তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন হাসপাতালটির নিউরো সার্জন রেজাউস সাত্তার।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা গত ৩ অক্টোবর বিকালে এমসি কলেজে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার পর হামলার শিকার হন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল আলম ধারলো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায়, যাতে খুলি ভেদ করে তার মস্তিষ্কও জখম হয়।

হামলার পরপর জনতার হাতে আটক হামলাকারী বদরুল ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার শাস্তির দাবিতে টানা বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন সিলেটের কলেজ শিক্ষার্থীরা। দেশের নানা প্রান্তেও প্রতিবাদ চলছে।

হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, “নার্গিসের হামলাকারী বদরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like