‘জঙ্গি’ জাহিদের স্ত্রীকে খুঁজছে পুলিশ

maj-zahid-and-wife_ed

জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে স্ত্রী জেবুন্নাহার

নিউজ ডেস্ক: ঢাকার রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার সাবেক সেনাকর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহারকে খুঁজছে পুলিশ।

একমাস আগে আজিমপুরে যে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়েছিল, সেখানেই অন্য জঙ্গি ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দুই সন্তানকে নিয়ে ছিলেন জেবুন্নাহার। তবে অভিযানের চারদিন আগে সেখান থেকে সরে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

তাকে পাওয়া গেলে নিষিদ্ধ সংগঠনটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে ধারণা পুলিশ কর্মকর্তাদের।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, “জেবুন্নাহারকে পুলিশ খুঁজছে। আমাদের ধারণা তার কাছে নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।”

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুরের রূপনগরের একটি বাসায় পুলিশের অভিযানে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম নিহত হন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরী গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের যে বাসায় পুলিশি অভিযানে নিহত হন সেই বাসা জাহিদ ভাড়া করে দিয়েছিলেন। জঙ্গি গোষ্ঠীটিতে তামিমের পরেই ছিল তার অবস্থান।

পুলিশ কর্মকর্তা ছানোয়ার আগে জানিয়েছিলেন, সংগঠনে মেজর মুরাদ নামে পরিচিত জাহিদ নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় তামিমদের আস্তানাতেই ছিলেন।তবে অভিযান শুরুর আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।

পাইকপাড়ায় অভিযানের পরদিন জাহিদ পরিবার নিয়ে রূপনগরের বাসা ছাড়েন বলেও ছানোয়ার জানিয়েছিলেন।

স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপদ স্থানে রেখে তিনি আবার রূপনগরের বাসায় ফিরেছিলেন কিনা সে ব্যাপারে পুলিশ কিছু না জানালেও ২ সেপ্টেম্বর এই বাসাতেই অভিযানে নিহত হন জাহিদ।

এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার আজিমপুরে বিডিআর ২ নম্বর গেটের পাশে এক বাড়িতে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান শেষে ওই বাড়ি থেকে সংগঠনটির সমন্বয়ক তানভীর কাদেরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিন শিশুকে উদ্ধার করার পাশাপাশি আহত অবস্থায় আটক করা হয় তিন নারীকে।

তিন নারী হলেন- তানভীর কাদেরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা, গুলশান হামলায় জড়িত নুরুল ইসলাম মারজানের স্ত্রী আফরিন ওরফে প্রিয়তি এবং আরেক জেএমবি নেতা বাসারুজ্জামান ওরফে চকলেটের স্ত্রী শারমিন ওরফে শায়লা আফরিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুই মেয়েকে নিয়ে আজিমপুরের ওই আস্তানাতেই ছিলেন জেবুন্নাহার। পুলিশের অভিযানের চারদিন আগে এক বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান তিনি। ওই বাসায় রেখে যান ৭/৮ বছর বয়সী আরেক মেয়েকে।

“শিশুটি জানিয়েছে, পুলিশের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতেই তার মা অন্য কোথাও চলে গেছে,” বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মায়ের সঙ্গে বসেই টেলিভিশনে রূপনগরে অভিযানের দৃশ্য দেখার কথাও শিশুটি জানিয়েছে বলে তিনি জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like