আকণ্ঠ বিপ্লব পিয়াসী মোহাম্মদ ফরহাদ এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

comred-farhad

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ০৯ অক্টোবর: শোষিত মানুষের নিবেদিত বন্ধু, নির্ভীক বিপ্লবী, শোষণমুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত সংগ্রামী, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিসংগ্রামের মূর্তপ্রতীক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৯ অক্টোবর। কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে তাঁর নিজ এলাকা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নানাবিধ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর আদর্শের চেতনায় উজ্জীবিত কতিপয় স্থানীয় সমাজসেবীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ কম্উিনিটি হাসপাতাল বোদায় এই বিপ্লবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘বাল্যবিয়ে আর নয়’ শ্লোগানে মেয়েদের সাইকেল র‌্যালী এবং সামাজিক জাগরণ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। ৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় বোদা পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গন থেকে সাইকেল র‌্যালী শুরু হবে। এই মহান বিপ্লবীর জীবনসাথী, এদেশের নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম নেপথ্য সংগঠক, সমাজকর্মী মিসেস রীনা ফরহাদ এসব কর্মসূচীতে যোগ দিবেন। এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এর সংগ্রামী জীবনের অন্যতম সহযোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবজ্জ্¦ল ভূমিকার জন্য দেশবাসীর হৃদয়ে শ্রদ্ধায় চিরজাগ্রত হয়ে আছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি তদানিন্তন ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ ও কমিউনিষ্ট পার্টির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ গেরিলা বাহিনীর প্রধান সংগঠক ও অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আশির দশকে তাঁর নেতৃত্বাধীন সিপিবিকেই মনে করা হতো, বাংলাদেশের অত্যন্ত সুশৃংঙ্খল, সংঘবদ্ধ এবং দ্রুত বিকাশমান দল। সে সময়ের ক্ষেতমজুর আন্দোলন, যুব আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, নারী আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই সমাজতন্ত্র অভিমুখীন একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা দ্রুত বিকশিত হচ্ছিল। অনেকেই আজও মনে করেন, অকাল মৃত্যু না হলে এই মানুষটির নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম নতুন এক ধারায় বিকশিত হতো।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের আপোষহীন সংগ্রামী কমরেড মণি সিংহ এবং কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিকে সমাজতন্ত্র অভিমুখীন ধারায় পরিচালিত করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন। তাঁরা রাজনীতি করেছেন মানুষের জন্য, লোভের বশবর্তি হয়ে নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন তথা শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তাঁরা জাতীয় মুক্তি আন্দোলন ও সর্বহারা শ্রেণীর মুক্তির আকাঙ্খাকে একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করেছেন।
বিপ্লবীরা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন তাঁদের কর্মের জন্যে। শুধু তাত্ত্বিক আদর্শ গ্রহণ নয়, বরং নিজেদের জীবনকে তাঁরা যেভাবে মেহনতি মানুষের জন্য উৎসর্গ করেন, সেই নির্মোহ প্রেরণা এবং উদ্দিপনা পেতে হলে আমাদেরকে তাঁদের সম্পর্কে বেশি বেশি করে জানতে হবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like