কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না: হাসিনা

pm-ed

নিউজ ডেস্ক: কলেজছাত্রীর উপর ছাত্রলীগ নেতার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধী কাউকে দলীয় বিবেচনায় প্রশ্রয় দিচ্ছেন না তিনি। সিলেটের ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ‌্যে বৃহস্পতিবার সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “দলীয় হিসেবে আমরা তো তাকে (হামলাকারী) প্রশ্রয় দিচ্ছি না। যারাই অপরাধী, যে অপরাধই করুক, সে শাস্তি পাবেই। তাকে শাস্তি পেতেই হবে।”

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম সোমবার এমসি কলেজে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে।

এই ছাত্রী এখন স্কয়ার হাসপাতালে মৃত‌্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অন‌্যদিকে বদরুলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের প্রশ্রয় পেয়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এই প্রতিক্রিয়ায় পাল্টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির অনেক নেতা অনেক কথা বলছে। আমার প্রশ্ন, তারা যখন জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারল, সেকথা কি তারা ভুলে যাচ্ছে?”

“আমি শুধু দেশবাসীকে এটুকুই বলতে পারি, কে কোন দল করে সেটা আমি দেখি না, দেখব না। যে অপরাধী সে অপরাধীই। অপরাধীর বিচার হবেই,”  বলেন তিনি।

ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বড় বড় পত্রিকায় আসছে, অমুক দল করে, তমুক দল করে। এখানে তো কোনো দলীয় কোন্দল ছিল না বা দল হিসেবে কেউ মারতে যায়নি।

“কেন মারতে গেছে সেটা তো পেপারেই এসেছে। সে প্রেম নিবেদন করেছে, মেয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেজন্য হত্যা করতে গেছে। কিন্তু সেজন্য কি একটা মানুষকে হত্যা করতে হবে? আর কিছু পত্রিকা এবং কিছু লোক এটাকে দলীয় হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে।”

‘ভিডিও করল, বাঁচাতে এল না!’

এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে খাদিজাকে কোপানোর দৃশ‌্য অনেকে মোবাইলে ধারণ করলেও তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে না আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

“একটি মেয়েকে কীভাবে কোপানো হল! আমার অবাক লাগে, যখন এই ছবিটা দেখি যে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, দেখছে, ভিডিও করছে, ছবি তুলছে; কিন্তু মেয়েটাকে বাঁচাতে কেউ গেল না, বাঁচাবার চেষ্টা করল না।”

“একটা লোক কোপাচ্ছে আর এতগুলো লোক দেখছে! তারা কি একজোট হয়ে ওই লোকটাকে ধাওয়া দিতে পারত না? তারা কি ওই মেয়েটাকে রক্ষা করতে পারত না?”

কেন এই মানবিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে গেল, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খাদিজাকে কোপানোর ভিডিও ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যমে আসার পর তা নিয়ে ব‌্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজাকে দেখার সময় সেলফি তুলে সমালোচিত যুব মহিলা লীগের নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন দাবি করেছেন, এই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং বদরুলকে গ্রেপ্তার করতে ভূমিকা ছিল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের।

এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, খাদিজার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিজ দপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত তার চিকিৎসার খোঁজখবরও নিচ্ছেন।

‘পুড়িয়ে মারার বিচারও হবে’

২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে ‘মানুষ পুড়িয়ে মারার’ নিন্দা জানিয়ে ওই সব হত্যাকাণ্ডেরও বিচার করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

“যারা মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, তাদের কি বিচার হবে না? যারা পোড়া ঘা নিয়ে আজকে বেঁচে আছে, তাদের কি বিচার পাওয়ার অধিকার নেই? যারা আপনজন হারিয়েছেন তাদেরকে কি বিচার চাওয়ার অধিকার নেই?”

“যারা মানুষ পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত, যারা জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তাদের বিচার অবশ্যই হবে। এই বিচার বাংলার মাটিতে হবে,” বলেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধীদের যারা প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের বিচারের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের যারা প্রশ্রয় দিয়েছে, করেছে তাদের বিচার কেন হবে না? তাদেরও বিচার বাংলার মাটিতে হওয়া উচিৎ। এটাও অপরাধ। অপরাধীদের যারা সহযোগিতা করে তারাও সমান অপরাধী এতে কোন সন্দেহ নেই।”

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বানও জানান সরকার প্রধান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like