‘বাংলায় যদি জন্ম তোমার, আমার দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাবে’

file-2শিল্প সাহিত্য ডেস্ক : ‘পরানের গহীন ভিতর’ জাদুর রুমাল নেড়ে ছয় দশকের বেশি সময় বাংলা সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে সদর্পে বিচরণ করেছেন তিনি; সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বাংলার মানুষের কাছে শেষ বিদায় নিলেন সবার শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে।

বুধবার বৃষ্টিভেজা সকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ; এসেছিলেন সরকারের মন্ত্রীরা, আমলারা, রাজনীতিবিদরা। বহু যুগের কলমযুদ্ধের সহযোদ্ধা, শিল্প-সাহিত‌্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি, আর ভক্ত, পাঠক, সবার হাতে ছিল শ্রদ্ধার ফুল।

বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি হামিদ লেখকের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সৈয়দ হকের স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হকের সঙ্গে কথা বলেন, সান্ত্বনা দেন।

রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখকপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক। তিনি জানান, ক‌্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর যখন কেমোথেরাপি চলছিল, তখনও বিছানায় শুয়ে তার মনে বারবার উঁকি দিয়েছে সাহিত্য, আন্দোলিত হয়েছে নতুন নতুন শব্দ।

ফুসফুসের ক‌্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ হকের মৃত‌্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর; স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন তিনি।

‘পরিপূর্ণ এক বাঙালি’

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর কৈশরের বন্ধু সৈয়দ হককে স্মরণ করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

“মেট্রিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে পরিচয়। মৃত্যুর ৪/৫ দিন আগেও টেলিফোনে কথা হয়েছে। মনেপ্রাণে সাহিত্যিক ছিলেন। এর বাইরের কাজগুলো গৌণ ছিল। মেধা এবং শ্রমের সাহায্যে অসাধারণ সাহিত্য নির্মাণ করেছেন। পরিমাণে যেমন বড়, গুণেও সম্বৃদ্ধ।”

আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিত ঘোষ লেখক সৈয়দ শামসুল হককে বর্ণনা করেন রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে বিচরণ করা একমাত্র লেখক হিসেবে।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার দেখায় সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন ‘পরিপূর্ণ এক বাঙালি, পরিপূর্ণ এক মানুষ পরিপূর্ণ এক সাহিত‌্যিক’, যিনি হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাস নিজের কবিতায় বিবৃত করে গেছেন।

সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাত বলেন, “সৈয়দ শামসুল হক যে ভাষা নির্মাণ করেছেন তা এখানকার আধুনিকতাবোধ, বুদ্ধি এবং শৈলীতে অনন‌্য। তিনি শেকসপিয়রের যে অনুবাদ করেছেন, তা দুই বাংলায় সমানভাবে সমাদৃত।”

শিল্পী হাশেম খান বলেন, “প্রিয় মানুষ হক ভাইয়ের জন্য আজ আমরা কাঁদছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নিষিদ্ধ লোবান পড়ে আমি অনেক দিন অভিভূত ছিলাম। আমার শরীরের লোম শিহরিত ছিল কয়েক দিন।

“তার পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নুরল দিনের… এগুলো বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তিনি নতুন নতুন যে ভাষা নির্মাণ করেছেন তাও বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। তাকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে যা যা করা দরকার সরকার যেন সেগুলো করতে কার্পণ‌্য না করে।”

জীবন-মৃত্যুর ভেদরেখা মুছে দিয়ে অমরত্বের পথে পা বাড়ানো এই লেখক মৃত‌্যুর পরের সৈয়দ শামসুল হককে নিয়ে কী ভেবেছিলেন?

এপিটাফ কবিতায় তিনি লিখে গেছেন-

 

আমি কে তা নাইবা জানলে।

আমাকে মনে রাখবার দরকার কি আছে?

আমাকে মনে রাখবার?

বরং মনে রেখো নকল দাঁতের পাটি,

সন্ধ্যার চলচ্চিত্র আর জন্মহর জেলি।

আমি এসেছি, দেখেছি, কিন্তু জয় করতে পারিনি।

যে কোনো কাকতাড়ুয়ার আন্দোলনে,

পথিক, বাংলায় যদি জন্ম তোমার,

আমার দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাবে।

‘আমাদের টেন্ডন ছিড়ে গেছে রে!’

মঙ্গলবার রাতে গুলশান ৬ নম্বর রোডে তার বাড়ি ‘মঞ্জুবাড়িতে’ শেষ গোসলের পর কফিন রাখা হয় ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে। সেখান থেকে বুধবার সকালে লেখকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে চ‌্যানেল আই কার্যালয়ে।

সেখানে জানাজার পর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সৈয়দ হকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তারপর কফিন নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

সৈয়দ শামসুল হককে বিদায় জানাতে শহীদ মিনারে এসে তার কাব্যনাটক ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা আলী যাকের যেন নাটকেরই সংলাপ আওড়ালেন।

“আমাদের টেন্ডন ছিড়ে গেছে রে! কি বলিস?”

পাশে থাকা লেখক রশীদ হায়দার মাথা নেড়ে ‘হ‌্যাঁ’ বলেন। পারিবারিকভাবেও তিনি সৈয়দ হকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “জাতির প্রয়োজনে জাতির সামনে তিনি হাজির করেছিলেন নুরলদীন চরিত্রটিকে। সেই চরিত্রটি জাতিকে এক সাংস্কৃতিক বিদ্রোহের শক্তি জোগায়।”

পাশ্চাত্যরীতি থেকে ‘অনুপ্রাণিত’ হলেও লেখক সৈয়দ শামসুল হক কখনও সেই রীতিতে ‘শাসিত’ হননি বলে মন্তব‌্য করেন তিনি।

নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের পক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আলী যাকের বলেন, “তিনি কত বড় মাপের স্রষ্টা ছিলেন তা সাহিত্যের সবক্ষেত্রে তার বিচরণ দেখে বোঝা যায়। আমাদের এ প্রজন্মে কেন, আগামী কয়েক প্রজন্মেও তার মতো একজন স্রষ্টা আসবে না।”

১৪ দলের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আজীবন অগ্রগামী ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। তার মৃত্যুতে পুরো জাতি আজ অত্যন্ত ব্যথিত, শোকার্ত চিত্তে তাকে স্মরণ করছে।”

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, “সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে বিচরণ ছিল তার। লেখনীর মাধ্যমে তিনি জাগিয়ে তুলেছেন গোটা দেশকে, এই সমাজকে। ঘুমন্ত বাঙালিকে জাগাতে তিনি হাঁক দিয়েছিলেন ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ – কবিতায় তার মতো করে আর কে বলতে পারে।”

চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মোরশেদুল ইসলাম বলেন, “আমার ভীষণ কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। আমার চলচ্চিত্র ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ যেবার সরকারি অনুদান পেল, সে অনুদান কমিটিতে ছিলেন তিনি। তিনি আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছিলেন। আমি চাইব, তার প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম যেন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়।”

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, “লন্ডনে বসে ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ এবং ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ এর চিত্রনাট্য দুটি তিনি জাদুঘরে দেবেন বলেছিলেন। আমরা ভাবছিলাম সৈয়দ শামসুল হক, হাসান হাফিজুল হকসহ গণ্যমান্যদের নিয়ে আমরা একটি সাহিত্য কর্ণার করব। কিন্তু তার আগেই তো তিনি চলে গেলেন।”

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের পর্যায়ে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, “আমাদের বাংলা সাহিত্যর জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্রটির পতন হয়েছে। একটি গৌরবের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে এটাকে আমি সমাপ্তি মনে করি না।… তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। রোগ শয্যায়ও তিনি অনবরত লিখে গেছেন। তার হৃদয়জুড়ে ছিলো বাংলাদেশ।”

সৈয়দ শামসুল হক স্মরণে আগামী শনিবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক স্মরণসভা হবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, জনপ্রশাসন সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসেছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে।

আরও এসেছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি আনিসুজ্জামান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, আলী যাকের, সারা যাকের, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ম. হামিদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় কবির কফিনে।

জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় কুড়িগ্রামে।

১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই কুড়িগ্রাম শহরের থানা পাড়ায় তার জন্ম। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠের পাশে তাকে শায়িত করা হয়।

সাহিত‌্যের সর্বক্ষেত্রে বিচরণ

‘একদা এক রাজ্যে’ কাব্য দিয়ে ১৯৫৩ সালে সৈয়দ শামসুল হকের যাত্রা শুরু হলেও ‘তাস’ নামক গ্রন্থ আগেই প্রকাশিত হয়েছিল।

তারপর অবিরাম লিখেছেন সৈয়দ হক। সাহিত‌্যের সব শাখায়। তবে সব ছাপিয়ে কবি পরিচয়টিই প্রধান মনে করতেন তার সাহিত‌্যাঙ্গনের বন্ধুরা।

বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, পরাণের গহীন ভেতর, নাভিমূলে ভস্মাধার, আমার শহর ঢাকা, বেজান শহরের জন্য কেরাম, বৃষ্টি ও জলের কবিতা- এসব কাব‌্যগ্রন্থের অজস্র কবিতায় তার নানা নীরিক্ষা জনপ্রিয়তাও এনে দেয় তাকে।

কাব্যনাট্য রচনায় ঈর্ষণীয় সফলতা পাওয়া সৈয়দ হক নূরলদীনের সারাজীবন, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, ঈর্ষা ইত্যাদি নাটকে রেখেছেন মুন্সীয়ানার স্বাক্ষর। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।

তিনি মহাকাব্যিক পটভূমিকায় বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণনামে দীর্ঘ উপন্যাস যেমন লিখেছেন, তেমনি ছোট আকারের উপন্যাস লিখেছেন সমান তালে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে তার ‘নিষিদ্ধ লোবান’সহ নানা উপন‌্যাসে।

‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নীল দংশন’, ‘মৃগয়া’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘এক মহিলার ছবি’, ‘দেয়ালের দেশ’, ‘স্তব্দতার অনুবাদ’, ‘এক যুবকের ছায়াপথ’, ‘মহাশূন্যে পরানমাস্টার’, ‘তুমি সেই তরবারী’, ‘দ্বিতীয় দিনের কাহিনী’, ‘অন্তর্গত’, ‘এক মুঠো জন্মভূমি’, ‘শঙ্খলাগা যুবতী ও চাঁদ’, ‘বাস্তবতার দাঁত ও করাত’, ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’

‘আয়না বিবির পালা’সহ ৫০টির বেশি উপন‌্যাস এসেছে তার হাত দিয়ে।

ছোটগল্পে তিনি নিজের এলাকা উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের জীবনের মর্মন্তুদ ছবি এঁকেছেন।

গত শতকের ষাট, সত্তর ও আশির দশকে অনেক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট‌্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের জন‌্য গানও লিখেছেন সৈয়দ হক। তার লেখা গান ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা’র মতো বহু গান এখন মানুষের মুখে ফেরে।

তার নিষিদ্ধ লোবান উপন‌্যাস নিয়ে কয়েক বছর আগে গেরিলা নামে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।

সংবাদপত্রে কলাম লেখাকে আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে অনেকেই সৈয়দ হকের দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত ‘হৃৎকলমের টানে’র কথা বলেন।

সৈয়দ হকের আত্মজীবনী ‘প্রণীত জীবন’ও প্রশংসিত হয়েছে সাহিত‌্যাঙ্গনের মানুষদের কাছে।

-বিডিনিউজ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like