জন্মস্থান কুড়িগ্রামে শায়িত হলেন সৈয়দ শামসুল হক

file-1শিল্প সাহিত্য ডেস্ক :  দেশবরেণ্য কবি ও সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার জন্মস্থান নিজ শহর কুড়িগ্রামে শায়িত হলেন অন্তিম শায়নে। শেষ ইচ্ছা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠের প্রধান ফটকের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে দাফন করা হয়।

বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের জনাকীর্ণ মাঠে জানাজা নামাজ শেষে কফিন থেকে মরদেহ কবরে নামান কবির ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক ও কুড়িগ্রাম পৌর মেয়র আব্দুল জলিল।

এর আগে বিকেল ৪টায় সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, কবির স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক, একমাত্র ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হকসহ নিকট আত্মীয়রা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে মরদেহ নিয়ে কলেজ মাঠে অবতরণ করেন।

জানাজার আগে কবির ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘জলেশ্বরী আজ তোমার ছেলেকে ফিরিয়ে এনেছি তোমার কাছে। হৃদয়ের কাছে। ভালবাসার কাছে। প্রিয় জন্মভুমির কাছে। আমি গর্বিত। গর্বে বুক ভরে যায় একসাথে এত মানুষের ভালবাসা দেখে।’

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তার বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণে সহায়তা করবার জন্য। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমার বাবা খুব খুশি হয়েছেন এ মাটিতে শায়িত হতে পেরে।

জানাজার আগে কলেজ মাঠের পাশের মঞ্চে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাফর আলী, জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, জেলা ও দায়রা জজ ওএইচএম ইলিয়াস হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মন্ডল, জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জাসদের ইমদাদুল হক এমদাদ, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মোবিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্রাহাম লিংকন, প্রেসক্লাবের সভাপতি মমিনুল ইসলাম মঞ্জু, সম্মিলিত জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস ও সরকারি কলেজের উপাধক্ষ্য মীর্জা মো. নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাগণ এবং সর্বস্তরের মানুষ কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কবির জন্ম কুড়িগ্রাম শহরের থানাপাড়ায়। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার পড় নবম শ্রেণিতে উঠে ঢাকায় চলে যান। তিনি তার জীবনের অধিকাংশ লেখায় কুড়িগ্রামকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। শেষ ইচ্ছা বাস্তবায়নে কুড়িগ্রামে সমাহিত করা হয় তাকে।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার পর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

সৈয়দ হককে কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। তিনি পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like