পর্যটন বর্ষ : ৯ মাসে আশাহত কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা

dscn0043নুপা আলম, ২৬ সেপ্টেম্বর : সরকার ঘোষিত পর্যটন বর্ষ ২০১৬ কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ঘোষণার শুরুতেই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে কেবল মাত্র একটি বীচ কার্ণিভালের আয়োজন করা হলেও দৃশ্যমান আর কোন কিছুই দেখেননি তারা। ফলে ঘোষণার ৯ মাস অতিক্রম হওয়ার পর এ পর্যটন বর্ষের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। আর ওই প্রশ্নের মধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর পালন করা হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের রয়েছে দিনব্যাপী কর্মসূচিও।
কক্সবাজারের তারকা মানের হোটেল ওশান প্যারেডাইসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হায়াত খান জানান, সরকার ঘোষিত ২০১৬ পর্যটন বর্ষের মুল টার্গেট ছিল বিদেশী পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে নিয়ে আসা। এর জন্য শুরুতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয়েছিল বীচ কার্নিভাল। আর পর্যটন বর্ষের কাজ ওখানেই শেষ। ৯ মাস অতিক্রম হওয়ার পরও দৃশ্যমান আর কোন কিছুই দেখা যায়নি। ফলে কতটুকু সফল তা সরকার ভালই বলতে পারবেন।
তিনি জানান, কিছুটা বিদেশী পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসলেও তা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। যতটুকু ঢাকতোল পেটিয়ে এটা শুরু করেছিল পরে এটার উন্নয়নে সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগ যথার্থ নেই। এখানে আরো বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী। বিশেষ করে বিদেশী পর্যটকদের আসা-যাওয়া, খাওয়া নিরাপদ করতে উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি সৌন্দর্য বা আকর্ষণীয় স্পট উন্নয়ন করা উদ্যোগ নেয়া পরামর্শ দেন তিনি।
সী গার্ল এর ম্যানেজার নুর ই আলম মিথুন জানান, পর্যটন বর্ষের ঘোষণা কেবল একটি বীচ কার্ণিভালে সীমাবদ্ধ ছিল। এরূপ অনুষ্ঠান যদি আরো বেশি আয়োজন করা যেত তাহলে আরো বেশি পর্যটন আনা যেত।
লং বীচ ম্যানেজার সরওয়ার আলম জানান, পর্যটন বর্ষ সফল করতে হলে আরো অনেক বেশি উদ্যোগ ও মনোযোগী হতে হবে। বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা এবং দেশে বিদেশী পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তাদের অবহিত করতে হবে। তবেই বিদেশীরা কক্সবাজার ভ্রমণে আসবে।
পর্যটন পার্ক দরিয়ানগরের ব্যবস্থাপক এম সায়েম ডালিম জানান, কক্সবাজার ভ্রমণে আসার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ প্রতিবন্ধকতার কারণেই পর্যটকরা কম আসছে। ওই দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরী।
কক্সবাজার আবাসিক হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরিক পর্যটকরা যেভাবে বিদেশ যাওয়া শুরু করেছে ওই বিদেশ যাওয়ার প্রবণা কমতে হবে। আর এর জন্য জরুরী ঢাকা-কক্সবাজার আকাশ পথের বিমান ভাড়া কমাতে হবে। কক্সবাজার ঢাকার সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশীদের কক্সবাজার ভ্রমনে আনতে প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। বিদেশীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি বিশেষ এলাকাকে বিদেশীদের জন্য আবাসিক এলাকা ঘোষণা করতে হবে।
যদি বিদেশী পর্যটকের দেখাই না মিলে তবে কিভাবে বলা যাবে পর্যটন বর্ষ সফল। এমন প্রশ্নও করেন তিনি।
তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, পর্যটন বর্ষের বিষয়টি ক্রমাগত দৃশ্যমান হবে। এ বর্ষ সফল করতে প্রতিনিয়ত কিছু আয়োজনও অব্যাহত রয়েছে। যা জন্য পর্যটন বোর্ড সহ বিভিন্ন শাখার সমন্বিত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নানা দায়, সফলতা ব্যর্থতার মধ্যে পালন হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে রয়েছে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। আর এ দিবসকে ঘীরে পর্যটন বর্ষ এবং এ শিল্পের বিকাশে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে কাজ করার দাবি উঠেছে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like