শরণার্থী সঙ্কটে নতুন পথ খোঁজার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

01

নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘ দিন ধরে অভিবাসন ব‌্যবস্থাপনা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে- এই উপলব্ধি থেকে সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজতে জাতিসংঘের সদস‌্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মতামতধর্মী নিবন্ধের জন‌্য আলোচিত ইন্টারনেট সাময়িকী প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে প্রকাশিত এক লেখায় দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় ‘নতুন অংশীদারিত্বের’ ধারণা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

হাসিনা লিখেছেন, “একলা চলো নীতির বিধ্বংসী পথ ছেড়ে বিশ্বকে গঠনমূলক সহযোগিতার পথে যাত্রা করিয়ে দেওয়ার এটাই সময়।”

গতবছর বিশ্ব নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেনন, আর আজকের বিশ্বে অভিবাসী ও শরণার্থীরা যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে- সেই পার্থক‌্য স্বীকার করে নিতেও জাতিসংঘের সদস‌্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

নিজের দেশে উদ্বাস্তু হয়ে অথবা উন্নত জীবনের আশায় দেশান্তরি হয়ে চলতি বছর গন্তব‌্যে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ দিতে হয়েছে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ মানুষকে।

এর মধ‌্যে কেবল ভূমধ‌্যসাগরেই মৃত‌্যু হয়েছে আনুমানিক ৩ হাজার ২০০ জনের। আর বঙ্গোপসাগরের ঠিক পূর্বে আন্দামান সাগরে আরও হাজার খানেক মানুষের প্রাণ গেছে, দালালের খপ্পরে পড়ে যাদেরকে মৃত‌্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় খোলা সাগরে কাটাতে হয়েছে অভুক্ত-তৃষ্ণার্ত অবস্থায়।

১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে অভিবাসন ও শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে বিশ্ব নেতাদের বৈঠকের দিন প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে শেখ হাসিনার নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

ওই সম্মেলনে তিনি অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সঙ্কট মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক চুক্তির প্রস্তাব করেন, যা ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলেও বাস্তবায়নযোগ‌্য হবে, সেই সঙ্গে হবে ভারসাম‌্যপূর্ণ ও নমনীয়’।

অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক গ্লোবাল ফোরামের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ এ সমস‌্যা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে।

বর্তমানে যে পদ্ধতিতে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন ব‌্যবস্থাপনা সামলানো হচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ওই ব‌্য‌বস্থা বদলে ফেলার জন‌্য বিভিন্ন সময়ে আহ্বান জানিয়ে আসছে ঢাকা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেই সব দিনে যে বিপুল জনস্রোত শুরু হয়েছিল ইউরোপের পথে, তারা মূলত ছিলেন শরণার্থী, অভিবাসী নন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিশ্বে এখন শরণার্থীর চেয়ে অভিবাসন প্রত‌্যাশী মানুষের সংখ‌্যা বেশি। তাছাড়া এই অভিবাসন প্রত‌্যাশীরাই শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছেন; শরণার্থীরা আবার হয়ে যাচ্ছেন অভিবাসী।

গত দুই বছরে অভিবাসন ও শরণার্থী সমস‌্যা নতুন মাত্রা পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিষয়টি এখন অনেক বেশি মনোযোগ পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিবাসনের সুফলগুলো তার নিবন্ধে তুলে ধরে বলেছেন, সেই সুফল সহজেই নষ্ট হতে পারে যদি অভিবাসন ব‌্যবস্থাপনা দায়িত্বশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ না হয়।

তিনি বলেন, অভিবাসন ব‌্যবস্থাপানায় আন্তর্জাতিক কোনো অভিভাবক সংস্থা না থাকায় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রশ্নে আইনি কাঠামোর অভাবে অধিকাংশ দেশ এখন যার যার মত করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে।

“রাষ্ট্র যখন পরিস্থিত সামাল দিতে ব‌্যর্থ হচ্ছে, সেখানে তৈরি হচ্ছে শূন‌্যতা, যা পূরণ করছে চোরাকারবারি, মানব পাচারকারী এবং সংগঠিত অপরাধীরা। এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসী, তার নিজের দেশ এবং তাকে আশ্রয়দাতা দেশ- সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কেননা অভিবাসনের সুফল এক্ষেত্রে ঘরে আসছে না।”

গতবছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক এবং দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন তারা।

“সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এ বছর তাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে,” বলেন শেখ হাসিনা।

এই সঙ্কটে অভিবাসী, তার দেশ এবং আশ্রয়দাতা দেশকে কার্যকরভাবে সহযোগিতা করতে না পারায় জাতিসংঘেরও সমালোচনা করেন তিনি।

শেখ হাসিনার প্রস্তাব, “অভিবাসন সঙ্কট মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির নীতিমালা কী হবে- সে বিষয়ে জাতিসংঘের সদস‌্য রাষ্ট্রগুলোকে ঐকমত‌্যে পৌঁছাতে হবে। আর অভিবাসন ব‌্যবস্থাপনার কাজটি বিভিন্ন সংস্থার হাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে জাতিসংঘকেই তা দেখভাল করতে হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like