পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে নিলেন বাবার ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’

pm-trudoaward-01

নিউজ ডেস্ক: কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে এলিওট ট্রুডোর মরণোত্তর ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তার ছেলের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার মন্ট্রিলের হায়াত রিজেন্সি হোটেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কাছে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ হস্তান্তর করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন ও বিশেষ অবদান রাখায় কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননা হস্তান্তরের সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও অটোয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১২ দিনের সরকারি গত বুধবার ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লন্ডনে যাত্রাবিরতি করে ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুরে এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মন্ট্রিল রওনা হন তিনি। এরপর ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর এইডস, যক্ষ্ণা ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে করণীয় নিয়ে মন্ট্রিলে ‘জিএফ’ সম্মেলনে যোগ দেন।

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনের পর শেখ হাসিনা কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

সম্মাননা প্রদানকালে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে কয়েকজন বিশ্বনেতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন পিয়েরে ট্রুডো তার মধ্যে অন্যতম।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কয়েকটি দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় তার মধ্যে কানাডা অন্যতম জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পিয়েরে ট্রুডো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ পক্ষে দৃঢভাবে কথা বলেছেন।

পিয়েরে ট্রুডো কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের জন্যও সমর্থন দিয়েছিলেন বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ‌্য করে পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, “আমরা দুজনই দ্বিতীয় প্রজন্ম। আপনার বাবা ও আমার বাবা উভয়েই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।”

জাস্টিন ট্রুডো ও তার পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং বন্ধু রাষ্ট্র কানাডার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করেন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কানাডার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কানাডা সফর শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিউ ইয়র্ক পৌঁছানোর কথা রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like