পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১

dhaka-tangail-road-01

নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলে সাতজন, সিলেটের গোলাপগঞ্জে দুই জন ও  হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও বানিয়াচং উপজেলায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

টাঙ্গাইল: ঈদ ফেরতযাত্রার মধ‌্যে টাঙ্গাইলে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে মির্জাপুর ইচাইল এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছে আনালিয়া বাড়ি এলাকায় দুটি দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর মধ্যে ইচাইলে দুর্ঘটনায় এক শিশু, দুই নারী ও দুই পুরুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আনালিয়া বাড়িতে নিহত হয়েছেন দুই মোটর সাইকেল আরোহী।

মির্জাপুরে নিহতদের মধ‌্যে ছালমা আক্তার (২৫) নামে একজনের নাম জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১৭ জনকে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মহাসড়ক পুলিশের গোড়াই থানার ওসি খলিলুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, সকাল ৭টার দিকে ঢাকামুখী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী ইটবোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে হলে ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও অন্তত ২০ জন।

আহতদের কুমুদিনী হাসপাতাল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত বাস-ট্রাক মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে সকাল ৮টার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহাবুব হোসেন নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার এবং আহতদের ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছেন বলে মির্জাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম আহমেদ জানিয়েছেন।

এদিকে মির্জাপুরের ঘটনার দুই ঘণ্টার মাথায় বঙ্গবন্ধু সেতুর মহাসড়কের আনালিয়া বাড়ি এলাকায় একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মো. আছাবুর রহমান বলেন, সকাল ৯টার দিকে এলেঙ্গা থেকে মোটর সাইকেলে করে আনালিয়া বাড়ি এলাকায় যাওয়ার পথে বিপরীতমুখী প্রাইভেট কারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মোটর সাইকেলে থাকা একজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, আহত হন তার সঙ্গী। হাসপাতালে নেওয়ার পর অন‌্যজনেরও মৃত‌্যু ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

সিলেট: সিলেটের গোলাপগঞ্জে বাস খাদে পড়ে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। এদুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। শনিবার সকালে সিলেট-বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হবিগঞ্জ ও বানিয়াচং: হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও বানিয়াচং উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নিহতরা হলেন ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন (২০) ও বানিয়াচং উপজেলার সাকিল মিয়া (১৮)।

হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি ইয়াছিনুল হক বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নসরতপুরে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেট কার ও সিলেটগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

“এতে প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাদ্দাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।”

আহত দুইজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তারা হলেন ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা জুনেদ হোসেন (২৯) ও লামিয়া জামান (২৩)।

আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকের বরাতে জানিয়েছেন ওসি ইয়াছিনুল।

বানিয়াচং থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেন, উপজেলার বন্দেরবাড়ি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে সাকিল বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে এল আর হাইস্কুলমাঠে মোটরসাইকেল চালানো শিখছিলেন।

“মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন”

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like