জনারণ্যের সৈকত

dscn0031নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৪ সেপ্টেম্বর : কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত জনারণ্য। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল পেড়িয়ে, ঈদের ছুটিতে অবারিত টেউয়ের সুনীল জলরাশিতে ভেসেছে লাখো মানুষ। সাগরের গর্জনে ঘুম ভাঙ্গা শহরে একান্ত কিছু সময় কাটাতে পাড়ি জমিয়েছে দেশের আনাচে কানাচের র্পযটকেরা। প্রিয়জনের সাথে প্রিয় কিছু মুহূর্ত কাটাতে বেচে নিয়েছেন সাগর, পাহাড় আর দ্বীপ জেলা কক্সবাজারকে।

ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই  সমুদ্র শহর কক্সবাজারে চলছে পর্যটকের আগমনী গান।এ ধারা অব্যাহত থাকবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বুধবার বেলা ৪ টা। সমুদ্র সৈকতের সী ইন পয়েন্ট । পশ্চিমাকাশেহেলে পড়া সূর্যর প্রখরতা কমতে শুরু করেছে। ঝিকঝিক করা  বালুর তেজও কমছে। তবে বাড়ছে নারী পুরুষ আর শিশুদের ডেউ। সূর্যর হেলে পড়া সাথে বাড়ছিল পর্যটকদের আনাগোনা। সময়ের পালাবদলে সমুদ্রের বালুচরপরিনত হল জনসমুদ্রে।

ঈদুল আযহার টানা ছুটি উপভোগ করতে দেশের পর্যটন প্রধান পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে হাজার হাজার পর্যটকের কক্সবাজার বেড়াতে আসার কারণে শহর ও শহরতলীর সকল আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস সমূহের সমস্ত কক্ষ সকল কক্ষ পর্যটকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। হোটেল মালিকরা বলছেন,আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন কোন অতিথিকে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে না। এদিকে হাজার হাজার পর্যটকের কক্সবাজার আগমনকে পুঁজি করে যথারীতি গলাকাটা ব্যবসা ফেঁদেছে ব্যবসায়ীরা। শহরে প্রায় সকল প্রকার পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটক এসেছেন কক্সবাজারে। ঈদের পর দিন থেকেই পর্যটকের আগমণ শুরু হয়েছে। তবে গতকাল বুধবারই সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন এখানে। দলে দলে রিজার্ভ গাড়ী নিয়ে কিংবা প্রাইভেট গাড়ীতে করে পর্যটকেরা ঘুরতে এসেছেন এখানে। এভাবে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে বিকালের মধ্যেই শহর ও সাগরপাড়ের আড়াই শতাধিক হোটেলের সমস্ত কক্ষই পূর্ণ হয়ে গেছে।রাস্তাঘাটে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম। শহর ও সাগরপাড়ের বিপনীকেন্দ্র সমূহে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়। খাবার হোটেলসমূহেও লাইন ধরে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কক্সবাজার ছাড়াও পর্যটকেরা ইনানী পাথুরে সৈকত, হিমছড়ী ঝর্ণা, দরিয়ারনগর ন্যাচার পার্ক, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, আদিনাথ মন্দির, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনসহ জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধাণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, কক্সবাজার শহরের সমস্ত কক্ষ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে।

কক্সবাজার হোটেল ও গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ অর্থ সম্পাদক ও জিয়া গেস্ট ইন এর মালিক আলহাজ শফিকুর রহমান জানান,  ঈদের পরদিন থেকে প্রতিদিন ৮০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যটক শহর ও সাগরতটের হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে অবস্থান করবে।

 ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা ঢাকা বাসাবোর পর্যটক দম্পতি রিয়াজ  জানান, সাগর পাড়ে রাত কাটাতে বেশ ভালই লাগছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কক্সবাজারে এসে পর্যটকরা যাতে বিড়ম্বনার শিকার না হন এবং হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সেজন্য বেশ কয়েকজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে।তাছাড়া শহরের হোটেল-মোটেল রেস্তোরাঁ ও যানবাহনসহ রিকশায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা রোধে মূল্য তালিকা টানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like