‘কোটি বাঙালির মনে এখনও বাজে ভূপেনের গান’

bhupen-hajarika-1

বিনোদন ডেস্ক: বাংলার মুক্তি সংগ্রাম, অসাম্প্রদায়িক আর অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠা কোটি বাঙালির অন্তরে ভূপেন হাজারিকার গান সব সময় অণুরণিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভূপেন হাজারিকার ‘জয় জয় নবজাত বাংলাদেশ, জয় জয় মুক্তিবাহিনী’ গানটির মাহাত্ম্য তুলে ধরে তাকে বাংলাদেশের ‘পরম বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

ভূপেন হাজারিকার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘ভূপেন হাজারিকা ৯০ তম জয়ন্তী’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিনে এসে ভূপেন হাজারিকার নানা কীর্তিবন্দনায় মেতে উঠেন বাংলাদেশ ও আসামের সংস্কৃতিজনরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী।

তিনি বলেন, “কিংবদন্তি এই শিল্পী এসেছিলেন আমার বাসায়। আমার বাসায় তার গানের আসর বসেছিল। সে স্মৃতি কখনও ভোলার নয়।”

অনুষ্ঠানে আসামের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অজিত ভূঁইয়া বলেন, “ভূপেন হাজারিকা তার কালে হয়ে উঠেছিলেন সাম্যবাদের প্রবক্তা।”

পশ্চিমবঙ্গের ফোক ঘরানার ব্যান্ডদল দোহারের প্রধান কালিকা প্রসাদ ভূপেন হাজারিকাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সবচেয়ে বড় এম্বাসেডর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “তিনি এখনও আসামের মানুষের কাছে ভগবান।

“তিনি যখন রাজনীতিতে পদার্পণ করলেন, ভোটে দাঁড়ালেন, তার প্রতিপক্ষ তখন মন্তব্য করেছিলেন, ‘মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু ভগবান তো ভুল করতে পারেন না। ভূপেন হাজারিকা তো ভোটে দাঁড়িয়ে ভুল করতে পারেন না’।”

নানা স্মৃতিচারণায় কালিকাপ্রসাদ বলেন, “৫০-৬০ দশকের তিনি বাংলা গানে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিলেন। আস্থাহীনতার বিপরীতে তিনি আস্থার গান গেয়েছেন। আধুনিক গানে তিনি মানুষের কথা বলেছেন, জীবনের কথা বলেছেন।”

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বাংলাদেশের ‘পরম বন্ধু’ ভূপেন হাজারিকা স্মরণে বলেন, “মনুষ্যত্ববোধের অবমাননা যখনই হয়েছে, তখনই তার প্রতিবাদে বেজেছে তার গান।

“মানবিকতার বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শাসক, অসাম্প্রদায়িকতা যখন ফনা তুলেছিল- তখন তার গান আমাদের প্রতিবাদী করে।”

এর আগে ভূপেন হাজারিকা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিল্পী আসফ খানকে ‘ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা সমন্বয় বটা’ সম্মাননা দেওয়া হয়।।

আসফ খান বলেন, “আমি এর আগে অনেক সম্মাননা গ্রহণ করিনি। কিন্তু আজকের এই পদকে ভূপেন হাজারিকার নামটি থাকায় আমি আর না করতে পারিনি।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ।

সভাপতির বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আয়োজক ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ এর ঢাকা চ্যাপ্টারের সভাপতি এ এস এম শামসুল আরেফিন।

অনুষ্ঠান শেষে আসামের ভূপেন হাজারিকা কালচারাল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি উৎসব স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘দোলা হে দোলা’, ‘গান হোক বহু আস্থাহীনতার বিপরীতে এক গভীর আস্থার গান’, ‘জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়’ এর পাশাপাশি হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও ভূপেন হাজারিকার যৌথভাবে গাওয়া ‘হারাধন ও রঙমন’ পরিবেশন করা হয়। অহমিয়া ভাষার ‘বিহু’ গানও পরিবেশন করেন তারা।

‘ত্রাস ভুলে দানবেরে করি নাশ’ শিরোনামে ‘ভূপেন হাজারিকা ৯০তম জয়ন্তী’ উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন করে ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ, ভূপেন হাজারিকা কালচারাল ট্রাস্ট। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বুধবার সন্ধ্যায় এ উৎসবের উদ্বোধন করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like