মোরশেদ খানের অর্থপাচার মামলার ভবিষ‌্যৎ নির্ধারণ ৯ নভেম্বর

HC

আইন-আদালত ডেস্ক: দেনার দায়ে বন্ধের কাছাকাছি চলে যাওয়া সিটিসেলের অন্যতম মালিক বিএনপি নেতা মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলায় পুনঃতদন্ত হবে কি-না, তা জানা যাবে ৯ নভেম্বর।

দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এক আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চ রায়ের এই দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান; মোরশেদ খানের পক্ষে ছিলেন রোকন উদ্দিন মাহমুদ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম‌্যান মোরশেদ খান, তার স্ত্রী নাসরিন খান ও ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই মামলা করে দুদক।

২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার হংকংয়ে পাচার করার অভিযোগ আনা হয় মানি লন্ডরিং নিয়ন্ত্রণ আইনে করা ওই মামলায়।

এই দুদকই ২০১৫ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে আদালতকে জানায়, ওই ঘটনায় কোনো মানি লন্ডারিং ‘হয়নি’। এরপর বিচারিক আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মোরশেদ খান ও তার স্ত্রী-পুত্রকে অব্যহতি দেয়।

দুদক কৌঁসুলি জানান, হংকংয়ের স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের ওই হিসাবটি ২০০৮ সাল থেকে এক প্রশাসনিক আদেশে জব্দ রাখে হংকংয়ের পুলিশ। এরপর তারা বাংলাদেশে চিঠি দিয়ে জানায়, নতুন কোনো পদক্ষেপ না থাকলে ওই অ্যাকাউন্ট তারা খুলে দেবে।

এ অবস্থায় দুদক মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয় এবং পুনঃতদন্তের জন্য বিচারিক আদালতের অনুমতি চায়। ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত গত ২ জুন দুটি আবেদনই খারিজ করে দেয়।

নিম্ন আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাই কোর্টে রিভিশন আবেদন করে। গত ৫ জুন প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট হংকংয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট জব্ধের নির্দেশ দেয়।

পাশাপাশি বিচারিক আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না এবং কেন এ মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দেয় হাই কোর্ট।

মানি লন্ডারিং ‘হয়নি’ বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর সেই দুদকই কেন আবার মামলাটির পুনরুজ্জীবন চাইছে- এমন প্রশ্নে খুরশীদ বলেন, “চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বিষয়টা আমরা দুদকের আইনজীবীরা জানতাম না। পরে আমরা যখন কাগজপত্র দেখি, তখন তাতে অর্থ পাচারের অভিযোগে বিচার হওয়ার মত উপাদান দেখতে পাই। এরপরই পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়।”

‘মানি লন্ডারিং হয়নি’ বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় দুদকের চেয়ারম্যান ছিলেন বদিউজ্জামান ও কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। গত মার্চে তার চলে যাওয়ার পর ইকবাল মাহমুদ নতুন চেয়ারম্যান হন। নতুন নেতৃত্ব আসার পর মামলাটি পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত হয়।

বিটিআরসির পাওনা দিতে না পারায় বন্ধের কাছাকাছি চলে যাওয়া দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের অন্যতম মালিক এই মোরশেদ খান, যিনি বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

তার মালিকানাধীন প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড সিটিসেলের ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

প্রায় ৪৭৮ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে আদালতের অনুমতি নিয়ে এখন কার্যক্রম চালাচ্ছে সিটিসেল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like