প্রাণভিক্ষা: আরও সময় চান মীর কাসেম আলী

mir-quasem-ali

নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধে মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী প্রাণভিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে আরও সময় চেয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তারা দ্বিতীয়বারের মত মীর কাসেমের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছিলেন।

“প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মীর কাসেম আলী আরেকটু সময় চান। তিনি ভেবেচিন্তে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।”

বুধবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষ মীর কাসেমকে তার রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানোর পর প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না-  তা জানতে চায়। সে সময়ও সময় চেয়েছিলেন একাত্তরের এই বদর নেতা।

এরপর রাতে কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না- তা জানাতে মীর কাসেমকে ‘যৌক্তিক সময়’ দেওয়া হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকালে আবারও তার সিদ্ধান্ত জানতে চাইবে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার -২ এর জেলার নাশির আহমেদ জানান, মীর কাসেম প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছেন।

সব বিচারিক প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি হওয়ায় জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেমের সামনে এখন কৃতকর্মের জন‌্য অনুশোচনা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগই কেবল বাকি।

তিনি সেই সুযোগ না নিলে বা প্রাণভিক্ষা চেয়ে বিফল হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ তার প্রাণদণ্ড কার্যকর করবে।

মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিলে কারাগারে বসে এক ব‌্যান্ডের রেডিওর মাধ্যমে সে খবর জানতে পারেন মীর কাসেম।

এরপর বুধবার দুপুরে স্ত্রী ও স্বজনরা কাশিমপুরে গিয়ে মীর কাসেমের সঙ্গে দেখা করেন।

কারাগার থেকে বেরিয়ে তার স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, তাদের ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেমকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ‘বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে’। আহমেদ যেহেতু তার বাবার একজন আইনজীবী হিসেবেও ছিলেন, সেহেতু তাকে না পাওয়া পর্যন্ত প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত তারা দিতে পারছেন না।

৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম আলী ২০১২ সাল থেকে এ কারাগারে রয়েছেন। শুরুতে কারাগারে ডিভিশন পেলেও ২০১৪ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ট্রাইব‌্যুনালে মৃত‌্যুদণ্ডের রায়ের পর তাকে পাঠানো হয় কনডেম সেলে।

এদিকে বুধবার থেকেই কাশিমপুর কারাগারের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। কারা ফটকে অতিরিক্ত কারারক্ষী মোতায়েন ছাড়াও ফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা কাজ করছেন।

কারা ফটকের রাস্তায় বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বুধবার নিজে এসে কারাগারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখে গেছেন।

তবে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কোথায় কার্যকর করা হবে সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট করেনি সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেছেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

ফাঁসি কার্যকরের বিষয় এলে তার আগে পরিবারের সদস‌্যদের আরেকবার মীর কাসেমের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

– বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like