লবণের দাম বাড়ায় উদ্বেগ সংসদীয় কমিটির

salt

অর্থনীতি ডেস্ক: আসছে কোরবানির ঈদের আগে বাজারে লবণের দাম বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি একই সঙ্গে লবণ সংকটের কারণে কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে । বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জরুরি ভিত্তিতে চামড়া শিল্পের কথা বিবেচনা করে দেড় লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এরপরও স্থায়ী কমিটি বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের সুপারিশ করেছে বলে জানান তিনি।

ছানোয়ার বলেন, “বন্যা এবং অতি বৃষ্টির কারণে দেশীয় লবণ চাষীদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জোয়ারের পানির কারণে কিছুদিন লবণ উৎপাদন বন্ধও রয়েছে।”

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অতি বৃষ্টির কারণে লবণ উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও বৈঠক থেকে কমিটিকে জানানো হয়।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন। এতে এবার কাঁচা চামড়ার বাজারে ধস নামার আশঙ্কা করছেন তারা।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জানতে চাইলে বলা হয়, অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে লবণ আমদানির ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের লবণ চাষীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিক বিবেচনা করেই স্বল্প পরিসরে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) হিসাবে দেশে বছরে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। গতবছর দেশে উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ টন।

বিগত মৌসুমে দেশে লবণ উৎপাদন লক্ষ্য অনুযায়ী না হওয়ায় বছরজুড়েই দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। এর ফলে এক কেজি ভালো মানের ভোজ্য লবণের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ টাকায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয়। ওই সময় দু’দিনেই ৪ লাখ ৩৫ হাজার টন লবণের ঋণপত্র খোলেন ৪৫ জন আমদানিকারক। পরে তাদের সমান হারে দুই হাজার ২২২ টন করে লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের জন্য নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গৃহীত পরিকল্পনা বা কৌশল, দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাণিজ্য মেলা সংক্রান্ত ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এসময় কমিটির পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়কে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।

কমিটি সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মো. ছানোয়ার হোসেন, মো. মনজুরুল ইসলাম লিটন ও লায়লা আরজুমান বানু।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like