অলিম্পিকে ভালো করায় বিএমডব্লিউ দিলেন সচিন তেন্ডুলকর

sachin_bmw

ক্রীড়া ডেস্ক: রিও অলিম্পিকে ভারতের হয়ে যারা রূপা ও ব্রোঞ্জের পদক পেয়েছেন, যথাক্রমে সেই পি ভি সিন্ধু ও সাক্ষী মালিক – এবং অল্পের জন্য যার পদক হাতছাড়া হয়েছে সেই দীপা কর্মকারকে আজ বিএমডব্লিউ গাড়ি পুরস্কার দিয়েছেন ভারতের ক্রিকেট লিজেন্ড সচিন তেন্ডুলকর।

হায়দ্রাবাদে পুল্লেলা গোপীচাঁদ ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ব্যাডমিন্টন তারকা সিন্ধু ও তার কোচ গোপীচাঁদ, কুস্তিগির সাক্ষী ও জিমন্যাস্ট দীপার হাতে নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে কিনে বিএমডব্লিউ গাড়ির চাবি তুলে দিলেন সচিন তেন্ডুলকর – এবং বললেন এই পুরস্কার এদের প্রত্যেকের প্রাপ্য।

“গোটা দেশের পক্ষ থেকে তাদেরকে এভাবে পুরস্কৃত করতে পেরে আমি সম্মানিত। আমি রিওতে ওদের দেখেছি – কী অবিশ্বাস্য নিষ্ঠা আর আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে ওরা গেছে, ফলে এটা ওদের পাওনা। আমি নিশ্চিত দেশের জন্য ওরা আরও অনেক সম্মান বয়ে আনবে, আর এমন একটা মুহূর্ত ওরা বয়ে এনেছে যাতে গোটা দেশ আনন্দে ফেটে পড়ছে।’’

sakshi_sindhu_dipaভারতের এই তিন অ্যাথলেট দেশে ফেরার পর থেকে যে বিপুল সংবর্ধনা, কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনুদান, লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব পাচ্ছেন তা একেবারেই অভূতপূর্ব – কিন্তু সোয়াশো কোটি মানুষের এক বিশাল দেশ মাত্র দুটো পদক পাওয়ার পর তা নিয়ে এতটা মাতামাতি শোভন কি না সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

কিন্তু ভারতীয় ক্রীড়ামোদীরা অন্তত তাতে এতটুকুও আমল দিতে রাজি নন। বিগত লন্ডন অলিম্পিকসের তুলনায় এবার রিওতে ভারত কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ পদক কম পেয়েছে, পায়নি কোনও স্বর্ণপদকও।

কিন্তু এবারে দেশের একটি ব্রোঞ্জ ও একটি রূপো-জয়ী দুই অলিম্পিয়ানকে নিয়ে যে পরিমাণ উচ্ছ্বাস, সংবর্ধনা, সরকারি অর্থসাহায্যের বান ডেকেছে তা একেবারেই নজিরবিহীন।

হায়দ্রাবাদের মেয়ে সিন্ধুকে অন্ধ্রপ্রদেশ না তেলেঙ্গানা – কোন সরকার বেশি পুরস্কার দেবে তা নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি চলছে।

এমন কী অল্পের জন্য পদক না-পাওয়া দীপাও নিজের শহর আগরতলায় হুডখোলা জিপে সংবর্ধনা পেয়েছেন, তার সম্মানে ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের স্কুল-কলেজে একদিন ছুটিও ঘোষণা করেছে।

ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ের্স মর্গান দু-তিনদিন আগে এই বিপুল মাতামাতি ও উচ্ছ্বাসকে কটাক্ষ করে টুইট করেছিলেন, ‘১২০ কোটি মানুষের একটা দেশ দুটো হেরো পদক নিয়ে এরকম লাফালাফি করছে। ব্যাপারটা কতখানি লজ্জাজনক?’

মর্গানের এই টুইটের পর ভারতীয়রা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে একরকম ছিঁড়ে ফেলেছেন, বীরেন্দর সেহওয়াগের মতো ক্রিকেট তারকাও ইংল্যান্ডের কখনও ক্রিকেট বিশ্বকাপ না-জেতা নিয়ে মর্গানকে পাল্টা খোঁচা দিতেও ছাড়েননি।

রিও অলিম্পিকের গোঁড়ার দিকে ‘ভারতীয়রা তো শুধু সেলফি তুলতে ব্রাজিলে গেছে’ বলে যিনি তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন, সেই লেখিকা শোভা দে-ও সংবর্ধনার রকমসকম দেখে একটু বিস্মিত।

শোভা দে-র কথায়, “আমি যখন ওই টুইটটা করেছিলাম তখন ভারত একটাও পদক পায়নি – এবং ১২০ বা ১৩০ কোটি মানুষের একটা বিশাল দেশ কেন একজনও পদকজয়ী তৈরি করতে পারবে না, তা নিয়ে তখন দেশের মানুষের মধ্যে প্রবল হতাশা ছিল।’’

“এখন একটা ব্রোঞ্জ আর একটা রূপো পাওয়ার পরও আমি বলব কেন আমরা এত অল্পে সন্তুষ্ট হব? কেন আমরা লক্ষ্যকে আরও উঁচু করব না, যখন আমরা সেটা করার ক্ষমতা রাখি।’’

কিন্তু এই মুহুর্তে গোটা ভারত মাত্র দুটো পদক নিয়ে হাহুতাশ করতে রাজি নয়, বরং সেই দুটো পদককেই সম্মান আর পুরস্কারে ভাসিয়ে দিতে ব্যস্ত।

তবে অনেক ক্রীড়া অনুরাগীরই আক্ষেপ, এই অলিম্পিক-আবেগটা কিন্তু নতুন অ্যাথলেট তৈরিতে খরচ করা হচ্ছে না – সরকারি বা বেসরকারি উভয় স্তরেই রানিং ট্র্যাক বা ট্রেনিং সেন্টারের বদলে অর্থটা খরচ করা হচ্ছে বিএমডব্লিউ কিনতে।

-বিবিসি বাংলা

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like