বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে সঙ্গী রাশিয়া

FB_IMG_1472230206889চট্টগ্রাম ডেস্ক  : বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন উল্লেখ করে কনস্যুল জেনারেল অব রাশিয়ান ফেডারেশন, চট্টগ্রামের প্রধান ওলেগ পি বয়কো বলেছেন,  ‘বর্তমান সরকার রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে।  আর সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়ে তৎকালীন সোভিয়াত ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধনের সূত্রপাত হয়েছিল তা দিন দিন আরও এগিয়ে যাচ্ছে।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সুচিন্তা বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও বিশ্বরাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়, মূখ্য আলোচক ছিলেন সুচিন্তা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপিকা কানতার‍া খান।

সভায় অন্যতম আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যুগ্ম-মহাসচিব তপন চক্রবর্তী ও সুচিন্তা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের উপদেষ্টা স্থপতি আশিক ইমরান।

সুচিন্তা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের কার্যকরি সদস্য আবু হাসনাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম সজীব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওলেগ পি বয়কো আরও বলেন, ‘রাশিয়া আমার দেশ হলেও চট্টগ্রামকে আমি ভালোবাসি। এখানে আসলে মনে হয় না আমি দেশের বাইরে আছি। এদেশের মানুষকে বিশ্বাস করা যায়। এদেশের মানুষের সংগ্রামের চরিত্রের জন্য, দেশেপ্রেমের জন্য আমরা তাদের ভালোবাসি।’„

তিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সোভিয়াত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, আমাদের সেই অবদানের কথা বাংলাদেশের মানুষ এখনও ভুলে নি দেখে আমরা খুব খুশি হই।

স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে তৎকালীন সোভিয়াত ইউনিয়নের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘কর্ণফুলীর তলদেশে থাকা মাইন অপসারণে ও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দুই বছর কাজ করেছে রাশিয়া। অন্য দেশগুলো যখন এসবের জন্য অর্থ চেয়েছিল সেখানে রাশিয়া পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।’

তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমার পুতিনের নাম শুনছেন কিনা তা জানতে চান। এসময় প্রায় সবাই হাত তুলে পুতিনের নাম শোনার কথা জানান দিলে তিনি বলেন, ‘এটা থেকে বুঝা যায় ১৯৭১ সালে দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সূত্রপাত হয়েছিল তা আজও অটুট রয়েছে।’

সভার প্রধান বক্তা সুভাষ সিংহ রায় বলেন, ‘সারাবিশ্বের রাজনীতিবিদদের কাছে শিক্ষার নাম ছিল বঙ্গবন্ধু। অথচ বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আগ্রহের জায়গা থেকে সরে এসেছে। জেনেশুনে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসুন। জেনেশুনে ভালোবাসলে তা গভীর হয়।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় যারা তার বিরোধীতা করেছিলেন তাদের অনেকেই ছলে-বলে দলে ঢুকে গেছে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।’

সুভাষ সিংহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বড় সম্পদ উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ বড় সম্পদ পেয়েছে। তিনি দেশের মানুষের জন্য যে লড়াই করে চলেছেন তা ইতিহাস মনে রাখবে।’

মুখ্য আলোচক অধ্যাপিকা কানতারা খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর চলে যাওয়া পুরো জাতীর জন্য কালো অধ্যায়। আমরা সেই কালো অধ্যায় এখনও শেষ করতে পারছি না। কিছু মানুষের খারাপ কাজের জন্য এই কালো অধ্যায়টা বারবার  সামনে চলে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগস্ট মাস আমাদের শোকের মাস।তাই এ মাসের কর্মসূচিতে হাততালি দেবেন না।চলুন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে মুখে নয় বুকেই লালন করি।নিজের শক্তি দেখানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করবেন না।’

তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, কিছু পথভ্রস্ট মানুষ বাংলাদেশকে টেনে ধরতে চাচ্ছে।তারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করছে। তাই ধর্মকে ভালোকরে জানতে নিজে পড়ে জানো, অন্যর কাছ থেকে জেনো না।’

অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন সংগ্রাম করেছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় জেল খেটেছেন এদেশের মানুষের জন্য কথা বলার কারণে। এসব কিছুই তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে উল্লেখ আছে।তাই তরুণ প্রজন্মের উচিত যারা বিপথে যাচ্ছে তাদের এই অসমাপ্ত আত্মজীবনীর বর্ণনা শুনিয়ে জাগ্রত করা।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. আশরাফুল ইসলাম সজীব বলেন, আমরা জাতীয় বীরদের চেয়ে আমদানিকৃত বীরদের বড় করে দেখছি। আমাদের উচিত জাতীয় বীরদের সম্মান জানানো, তাদের বিষয়ে জানা।

তিনি বলেন, তরুণরা জঙ্গিবাদকে ভালোবাসে না। তারা জঙ্গিবাদকে বিশ্বাস করে না।আমরা তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনিয়ে তরুণ প্রজন্মকে জাগ্রত করতে চাই। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগের যুগ্ম সমন্বয়ক আবুল হাসনাত মো. বেলাল, কার্যকরি সদস্য অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী, প্রণব চৌধুরী, সরফরাজ নেওয়াজ খান রবিন, মোহাম্মদ বোখারী আজম, নূরুল আমিন, সংগঠনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক মনসুর আলমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলানিউজ

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like