গোলাম আযমপুত্র আটক, দাবি পরিবারের

বিডিনিউজ : যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতগুরু গোলাম আযমের ছেলে বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ‘ধরে নিয়ে গেছে’ বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

অবশ্য পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

আমান আযমীর ভাই সালমান আল আযামী মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য থেকে টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে কিছু লোক মগবাজারের বাসায় গিয়ে তার ভাইকে ধরে নিয়ে যায়।

“বাসায় প্রবেশ করে আমার ভাইকে তারা বলে- ‘আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে’। তাদের সঙ্গে কোনো অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ছিল না, কি কারণে আটক করা হচ্ছে- এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তরও তারা দেয়নি।”

মগবাজারের ওই বাসার কর্মচারী জাহেদ আলী বলেন, “তারা সাদা পোশাকে এসেছিল। স্যারকে নিয়ে গেছে।”

গোলাম আযমের স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযমের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়ির অষ্টম তলায় থাকেন।

আর আমান আযমী ওই বাড়ির সপ্তম তলায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন। রাতে ঘটনার সময় তিনি পঞ্চম তলায় ছিলেন বলে জানান আজাদ।

তার দাবি, ১৮ থেকে ২০টি গাড়িতে আসা ‘আইন-শৃঙ্খলা বহিনীর লোকজন’ ডিবি পরিচয় দিয়ে ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাট তল্লাশি করে এবং আমান আযমীকে ‘ধরে নিয়ে’ যাওয়ার সময় বাড়ির কয়েকটি সিসি ক্যামেরার সরঞ্জাম নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার  (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো অবগত নই। অনেকেই প্রশ্ন করছেন… তবে এখনো আমরা কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি।”

‘ধরে নিয়ে যাওয়ার’ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সালমান আযামী বলেন, “এখনো পারিবারিকভাবে আমরা জিডি করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ভাইদের মধ্যে উনিই একমাত্র দেশে ছিলেন। থানা-পুলিশ করার মত লোক নেই। আর জিডি করতে গেলে পুলিশ সহযোগিতা করবে কি না- তা নিয়েও সন্দেহ আছে।”

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী হিসেবে সবার আগে যার নাম আসে, সেই গোলাম আযমের ছয় ছেলের মধ্যে আমান আযমী চতুর্থ।

বাকি পাঁচ ছেলে আব্দুল্লাহিল মামুন আল আযামী, আব্দুল্লাহিল আমিন আযমী, আব্দুল্লাহিল মোমেন আযমী, আব্দুল্লাহিল জামান আযমী ও আব্দুল্লাহিল সালমান আল আযামী যুক্তরাজ্যে থাকেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালে বরখাস্ত হওয়া আমান আযমী ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের তথ্যকে ‘কাল্পনিক’ অখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তোপের মুখে পড়েছিলেন।

মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আবদুল্লাহিল আমান আল আযমী একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি অবসর জীবন-যাপন করছেন। তিনি দেশের একজন সুনাগরিক। তিনি দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার নামে কোনো মামলা নেই। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা অযৌক্তিক ও বেআইনি।”

গোলাম আযমের ছেলেকে ‘অবিলম্বে মুক্তি’ দিয়ে পরিবারের কাছে ‘ফেরত দেওয়ার’ দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like