সারা দেশে জাল নোটের ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট

jal taka

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীসহ সারা দেশে জাল নোটের ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। শুধু ঢাকার মধ্যেই কমপক্ষে ৫০টি গ্রুপ জাল নোট উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ গ্রুপগুলো আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। তারা তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রথমত বিভাগীয় পরে জেলা উপজেলা থেকে গ্রামপর্যায়ে জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিএফআইইউর সূত্রগুলো বলছে, এক হাজার টাকার একটি জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দিতে এর সরবরাহকারীকে দেওয়া হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট ছড়িয়ে দিতে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে তারা। শুধু তাই নয়, জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন থাকে না এমন হাটগুলোরও তালিকা করেছে এই সিন্ডিকেট। এ জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের সম্ভাব্য পশুর হাটগুলোতে এখন থেকেই তাদের প্রতিনিধিরা খোঁজখবর নিচ্ছে বলে বিএফআইইউএর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বসাধারণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাল নোটের হোতাদের ধরতে পুলিশ বিভাগকে খুব শিগগিরই ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত ৯ মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্য মানের জাল নোট শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। জাল নোটের প্রচলন, ছাপানো, বিস্তার ও বহনের অপরাধে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৬ হাজারেরও বেশি মামলা হয়েছে। ধরাও পড়েছে সহস্রাধিক অপরাধী। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে তারা আবার জামিনে বেরিয়ে পড়ছে। আর জেলের বাইরে এসে তারা আবার জাল নোটের সিন্ডিকেটের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানা গেছে। সঠিক তথ্য-প্রমাণ আর সাক্ষীর অভাবে এসব মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, জাল নোটের সিন্ডিকেট ধরতে সারা বছরই অভিযান চলে। কিন্তু ঈদের আগে অপরাধীরা একটু বেশি তত্পর হয়ে ওঠে। এ জন্য প্রতি বছর ঈদের আগে জাল নোট প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেগুলো তো আদালতের বিষয়।

সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে অন্তত অর্ধশত সিন্ডিকেট তত্পর হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল দোকানে জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে। এদের প্রতিরোধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শপিংমল এবং মার্কেটে জাল নোট শনাক্তকারী যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া রাজধানীর গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, টঙ্গী, সায়েদাবাদসহ কয়েকটি স্থানকে জাল নোট সরবরাহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের টহল বাড়ানো হয়েছে। জাল নোট বহন বা প্রচলনকারীদের ধরতে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলে আকস্মিক টহলও দেবে আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে জাল নোট-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে ৬ হাজার ২৫৭টি। আগের বছরের একই সময়ে মামলার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৩৩। কিন্তু সঠিক তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষী না থাকায় মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। ফলে অপরাধীরাও পার পেয়ে যাচ্ছে। উপযুক্ত শাস্তিও দেওয়া যাচ্ছে না জাল নোটের হোতাদের।

-বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like