অমরত্বের পথে উসাইন বোল্টের আরেক ধাপ

usain_bolt_rio_olympics

ক্রীড়া ডেস্ক: সবার প্রত্যাশা মিটিয়ে এখনকার অ্যাথলেটিকসের সবচেয়ে বড় তারকা উসাইন বোল্ট রিও অলিম্পিকসে ২০০ মিটার দৌড়েও স্বর্ণপদক জিতলেন।

আর এর মাধ্যমে তিনি এগিয়ে গেলেন নজীরবিহীন ‘ট্রেবল ট্রেবল’ জয়ের পথে আরও এক ধাপ। এগিয়ে গেলেন অমরত্বের পথেও।

রিও অলিম্পিকসে এরই মধ্যে জিতে নিয়েছেন ১০০ মিটার দৌড়ের স্বর্ণপদক।

এখন বাকী কেবল ৪X১০০ মিটারের রিলে রেস, যেটিতে তিনি অংশ নিবেন ব্রাজিলের স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবারই।

জ্যামাইকার এই ‘লাইটনিং বোল্ট’ ২০০ মিটার দৌড়ে সময় নিয়েছেন ১৯.৭৮ সেকেন্ড।

না, বিশ্ব রেকর্ড গড়েননি তিনি। কিন্তু তিনি হাটছেন কিংবদন্তী হওয়ার পথে। নাকি দৌড়াচ্ছেন?

অলিম্পিক অ্যাথলেটিকসে এখন পযর্ন্ত কেউ-ই একই ধরনের তিনটি ইভেন্টে পরপর তিনটি আসরে স্বর্ণপদক জিততে পারেননি।

বোল্ট সেই পথের প্রায় পুরোটাই পাড়ি দিয়েছেন। এরই মধ্যে আটটি সোনা জিতেছেন তিনি- আর এই আটটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনি কখনোই দ্বিতীয় হননি।

অ্যাথলেটিকসে এখন পর্যন্ত তাঁর চেয়ে বেশী স্বর্ণপদক জিতেছেন কেবল মার্কিন দৌড়বিদ কার্ল লুইস এবং ফিনল্যান্ডের দীর্ঘদৌড়ের স্প্রিন্টার পাভো নুরমি। দুজনেই নয়টি করে সোনা জিতেছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২৯ বছর বয়সী বোল্ট জানিয়েছিলেন যে তিনি ২০১৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের পর অবসর নিতে চান।

২০০ মিটারে স্বর্ণপদক জয়ের পর তিনি বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, এখানে এসে আমি যা করতে চেয়েছিলাম তা যে করতে পেরেছি, তা ভেবেই আমার চমৎকার লাগছে।

“দৌড় শেষ করতে যতটা সময় আমার লেগেছে, তা নিয়ে আমি খুশী না। কিন্তু সোনা জিতে আমার দারুন লাগছে, আর স্বর্ণপদক জেতাটাই ছিল এখানে মূখ্য।”

নিজেকে এরই মধ্যে সবচেয়ে সেরাদের কাতারে দেখতে পাচ্ছেন উসাইন বোল্ট।

“আমি যে সেরা সেটা দেখাতে আমাকে আর কী করতে হবে? তামাম পৃথিবীর সেরাদের একজন হওয়ার জন্যে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, আমি থাকতে চাই আলী এবং পেলের সাথে।“

যেসব ইভেন্টে তিনি অংশ নেন, সেগুলোকে যে তিনি একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছেন, সে ব্যাপারে বোল্টের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

“আমি এই খেলায় উত্তেজনা নিয়ে এসেছি, মানুষকে আমি এটা দেখতে বাধ্য করেছি। খেলাকে আমি ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছি।“

বোল্ট বিশ্বাস করতেন ১৯.১৯ সেকেন্ডের নিজের বিশ্ব রেকর্ড তিনি ভাঙ্গতে পারবেন।

কিন্তু রিওতে তাঁর এই ‘ধীরগতির’ দৌড়ে তিনি নিজেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ফিনিশিং রেখা পেরুনোর সময়।

তবে আমুদে বোল্ট খুব সময় নেননি হাসিতে ভেঙ্গে পড়তে। দৌড় শেষে দেখা গেছে তাঁর সেই বিখ্যাত লাইটনিং বোল্ট উদযাপন, যখন হাজার হাজার মানুষ চিৎকার করছিল তাঁর নাম ধরে।

-বিবিসি অনলাইন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like