কক্সবাজারকে আধুনিক পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত: গণপূর্ত মন্ত্রী

CBDA Pic-2

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৭ আগস্ট: কক্সবাজারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সুন্দর, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর পর পঞ্চম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিসেবে ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (কউক) যাত্রা শুরু করলো।

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘কউক’ এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী এ কথা বলেন।

কক্সবাজারের অপার প্রাকৃতিক সম্ভাবনা ও সময়ই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কর্মকান্ড এগিয়ে এনেছে মন্তব্য করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, কক্সবাজারে ইতিপূর্বে যে সব স্থাপনা হয়েছে; তা পরিকল্পনা ছাড়াই হয়েছে। এখন আর সেই ভাবে করা যাবে না। এ জন্য কক্সবাজারের মানুষের মাঝে উন্নয়ন ও পর্যটনবান্ধব সহনশীলতা সৃষ্টি করতে হবে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব সৈকত পৃথিবীর আর কোন দেশের নেই দাবি করে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে সমুদ্র যাতে দূষণের কবলে না পড়ে সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য প্রতিটি হোটেল-মোটেলকে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) স্থাপন করতে হবে। এছাড়া শহরবাসীর জন্যও আলাদা এসটিপি স্থাপন করা জরুরী।

মানুষ যাতে এক ছাদের নিচে সবধরণের সেবা পায় সেই লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের সরকারি সব দপ্তরের কার্যালয় স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন মন্ত্রী মোশারফ।

কউক’র এর দায়িত্ব গ্রহণকারি নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব:) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সুন্দর, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবধরণের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখা হবে। এ জন্য প্রশাসন সহ সর্বস্তরের সমন্বয় জরুরী।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দুর্নীতি ও ঘুষমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, কোন ধরণের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। সকলকে আইন মেনে সবধরণের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। এ জন্য কউক’র রেড বুকে ২০১১ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত যে সব উন্নয়ন পরিকল্পনা কথা উল্লেখ রয়েছে, তা ঢেলে সাজিয়ে নতুন করে মাষ্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার।

সভায় বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি. সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য খোরশেদ আরা হক, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like