চবির ‘নিখোঁজ’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল না মারজানের নাম

unnamed20160815221250বাংলানিউজ : গুলশানে হামলায় জড়িত সন্দেহবাজন জঙ্গি মারজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ছাত্র এমন খবরে ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এখনও মারজানের বিষয়ে তথ্য জানতে চায়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিভাগের ‘নিখোঁজ’ ছয় শিক্ষার্থীর তালিকা ৪ আগস্ট স্থানীয় হাটহাজারী থানায় দিয়েছিল। সেই ছয়জনের মধ্যে মারজানের নাম ছিল না।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিরূপনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ আছে কিনা এবং নিখোঁজ থাকলে তাদের তালিকা চেয়ে ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে চিঠি দেন স্থানীয় হাটহাজারী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইসমাইল।এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নিখোঁজ ও দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা চেয়ে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে চিঠি দেন রেজিস্ট্রার। এই চিঠিতে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে সব বিভাগের তালিকা জমা দিতে বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আরবি বিভাগ ‘নিখোঁজ’ শিক্ষার্থীদের তালিকা জমা দেয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বিভাগের পক্ষে নিখোঁজ শিক্ষার্থী আছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়নি। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেসব বিভাগের তালিকা পেয়েছিল সেটি যাচাই করে ‘নিখোঁজ’ ছয় শিক্ষার্থীর তালিকা ৪ আগস্ট হাটহাজারী থানায় জমা দেয়। পরে অবশ্য এই ছয় শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সোমবার রাতে বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর দেখে মারজানের বিষয়টি জেনেছি। মঙ্গলবার আমার ঢাকা যাওয়ার শিডিউল ছিলো, সেটি আমি বাতিল করেছি। মঙ্গলবার সকালেই আমি ক্যাম্পাসে গিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেব।’

একই কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা ও প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এক শিক্ষক বাংলানিউজকে বলেন, ‘নিখোঁজ’ হিসেবে যে ছয় শিক্ষার্থীর তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে দিয়েছিল সেই তালিকায় মারজানের নাম ছিল না। চিঠি দিয়ে বলার পরেও আরবি বিভাগ নির্দিষ্ট সময়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা দেয়নি। তাই  সেসব বিভাগের তালিকা পাওয়া গিয়েছিল সেখান থেকে যাচাইবাছই করে ছয় জনের তালিকা থানায় দেওয়া হয়েছিল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরবি বিভাগের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবে। পাশাপাশি মারজান নামের কোনো শিক্ষার্থী ওই বিভাগে আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হবে।

তালিকা না দেওয়ার বিষয়ে ও মারজানের সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে ঢাকার গুলশানে হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন জঙ্গি মারজানের পরিচয় শনাক্তের খবর বেরোয়। খবরে বলা হয় মারজানের পুরো নাম নুরুল ইসলাম মারজান। তার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ছাত্র। এ বছরের জানুয়ারিতে বাড়ি গিয়ে বিয়ে করে বাড়িছাড়া হন তিনি।

আফুরিয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে মারজান পাবনা শহরের পুরাতন বাঁশবাজার আহলে হাদিস কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি পাবনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল ও আলিম পাশ করেন। এরপর ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হন মারজান। এ বছরের জানুয়ারিতে শেষবারের মতো বাড়ি যান। এরপর এক খালাতো বোনকে বিয়ে করে বাড়ি ছাড়েন তিনি। এই আট মাসে পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না মারজানের পরিবারের দাবি।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like