দেশপ্রেমিক জনগণ জেগে ওঠো: সুলতান মোহাম্মদ মনসুর

image_94_18405-696x435১৫ আগস্ট, কী নিষ্ঠুর, কী ভয়াল, কী ভয়ঙ্কর- সেই রাত। যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অশ্রুভেজা, কলঙ্কময় রাতের কথা।বাংলার আকাশ-বাতাস প্রকৃতিও ধূলিকণা ভুলতে পারেনি। ভুলতে চায়নি, ভুলতে পারবে না। কেননা রক্তঝরা এই দিনটিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে শহীদ হন কাপুরুষদের হাতে ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে। এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে।

sultan-monsur (1)কাল থেকে কালান্তরে ঝরবে এ শোকের অশ্রু। সমগ্র জাতিকে যিনি গনতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় প্রস্তুত করেছিলেন পাকিস্তানি শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তিনি ত চিরঞ্জীব এ জাতির চেতনায়।আর তাই বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, এক মহান আদর্শের নাম। যে আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল গোটা দেশ। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষ আর বাঙালি জাতীয়তাবাদ, দর্শনে দেশের স্বাধীনতার সংবিধানও প্রণয়ন করেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। শোষক আর শোষিতে বিভক্ত সেদিনের বিশ্ববাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতের পক্ষে। যিনি বিশ্বাস করতেন, “এই বাংলার মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না”।

যদি তাই হয় তাহলে এ মহান নেতার স্বপ্নের দেশে আজ গণ মানুষ কেন ভোট ও ভাতের অধিকার এবং আইনের শাষন থেকে বঞ্চিত ? গণতন্ত্র প্রতিষ্টার সংগ্রামের মহানায়কের প্রিয় বাংলায় গণতন্ত্র ও মুক্ত মত প্রকাশের পথ কেন রুদ্ধ ? সন্ত্রাস, গুপ্ত হত্যা, গুম, খুন আর নিরাপত্তাহীন জনজীবন কি বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে কষ্ট দিচ্ছেনা ? কেন বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পরিকল্পিত গভীর সঙ্কটের মধ্যে নিমজ্জিত?

“রাজনীতির মুকুট” জাতির জনককে রাজনৈতিক পণ্য বানিয়ে ব্যক্তি ও  গোষ্ঠী স্বার্থে পরিস্তিতি কে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কে অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে কারা? হে বীর বাঙ্গালী, হে দেশপ্রেমিক জনগণ, জেগে ওঠো তাদের বিরুদ্ধে  যারা আমাদের ইতিহাস কে কলঙ্কিত করে চলেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,জাতীয় চার নেতা সহ এদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের সকল শহীদানের আত্মার শান্তির জন্য হলেও তাদের বয়কট করো যারা এই বাংলার সোনালী সুদিন নিয়ে খেলতে চায়। তাই আসুন সবাই মিলে অস্তিরতা দুর্নীতি,ও সংঘাত মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মানে মুক্তি সংগ্রামের চেতনার সকল দল ও মতের অংশগ্রহনে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাজনৈ্তিক জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কবর রচনা করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হই।

পরিশেষে বলি, পচাঁত্তরের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডকে মেনে না নিয়ে যারা সেদিন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিশোধ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং আমাদের যে সকল সহযুদ্ধা রা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন এমন কি পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারসহ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও এই দেশের সার্থে এ পর্যন্ত যারা জীবন দিয়ে গেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং প্রত্যাশা করি ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিটি বাঙ্গালী যেন আত্মমর্যাদার সাথে সাফল্য ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে যাওয়ার সুযোগ পায়। আর এটাই হউক ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।

জয় বাংলা … জয় বঙ্গবন্ধু … জয় হউক বংলার জনগণের।

লেখক: ডাকসুর সাবেক ভিপি  (লেখাটি পূর্ব পশ্চিম বিডি থেকে সংগৃহিত)

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like